কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, চালক গ্রেপ্তার
alamin dhakaprobe
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, চালক গ্রেপ্তার.
কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার (১০ অক্টোবর) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে চালক গন্তব্যের দিকে না গিয়ে অন্য পথে গাড়ি চালাতে শুরু করেন।বিষয়টি বুঝতে পেরে অটোরিকশা থেকেই বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠায় তাজমিন। তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাবার কাছে আকুতি জানায় সে। তবে গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকায় সময়মতো ওই বার্তা দেখতে পাননি।অটোরিকশাটি বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি নির্জন ধানক্ষেতে গিয়ে থামে। সেখানে নিজেকে বাঁচাতে কয়েকটি ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন। তবে সে ব্যর্থ হয়।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চালক সুমন গামছা পেঁচিয়ে তাজমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে অটোরিকশাটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে তাজমিনের মরদেহ ও পাশে পড়ে থাকা অটোরিকশাটি উদ্ধার করে লালমাই থানা-পুলিশ।তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয় শনাক্ত এবং উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা পর্যালোচনার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করে।জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তাঁর বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।তাজমিন নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে স্কুলে অনুপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।নিহতের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে নগরীর হোটেল নূরজাহানের সামনে তাকে শেষবারের মতো দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠায় সে।পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনেরা গিয়ে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে চালক গন্তব্যের দিকে না গিয়ে অন্য পথে গাড়ি চালাতে শুরু করেন।
বিষয়টি বুঝতে পেরে অটোরিকশা থেকেই বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠায় তাজমিন। তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাবার কাছে আকুতি জানায় সে। তবে গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকায় সময়মতো ওই বার্তা দেখতে পাননি।
অটোরিকশাটি বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি নির্জন ধানক্ষেতে গিয়ে থামে। সেখানে নিজেকে বাঁচাতে কয়েকটি ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন। তবে সে ব্যর্থ হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চালক সুমন গামছা পেঁচিয়ে তাজমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে অটোরিকশাটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে তাজমিনের মরদেহ ও পাশে পড়ে থাকা অটোরিকশাটি উদ্ধার করে লালমাই থানা-পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয় শনাক্ত এবং উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা পর্যালোচনার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করে।
জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তাঁর বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
তাজমিন নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে স্কুলে অনুপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নিহতের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে নগরীর হোটেল নূরজাহানের সামনে তাকে শেষবারের মতো দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠায় সে।
পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনেরা গিয়ে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করা হয়।