অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন: পুলিশ
alamin dhakaprobe
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন: পুলিশ.
কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন সুমন নামের ওই সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে কুমিল্লা রেসকোর্স এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভাড়া করেন। তবে সুমন তাঁকে শহরের দিকে না নিয়ে পদুয়ার বাজার থেকে বিজরার দিকে নিয়ে যান।পুলিশের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় এদিক-সেদিক ঘোরানোর পর সুমন তাজমিনকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। তাজমিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে দুর্বল হয়ে পড়লে সুমন তাঁকে কাবু করেন।পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তাজমিনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাস্থল ছেড়ে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গোসল করেন। যাওয়ার সময় তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান। ফোনটি একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান।ফেলে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বর ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল চট্টগ্রাম নগরের একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতে জবানবন্দি দেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতে তোলার পর বিষয়টি বোঝা যাবে।সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।যেভাবে উদ্ধার হয় তাজমিনের মরদেহগত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি আর স্কুলে যাননি।তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। তাঁরা কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন তাজমিন। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাঁকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। ওই দিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান তিনি। তবে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পাননি।পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করে পুলিশ।এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন সুমন নামের ওই সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে কুমিল্লা রেসকোর্স এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভাড়া করেন। তবে সুমন তাঁকে শহরের দিকে না নিয়ে পদুয়ার বাজার থেকে বিজরার দিকে নিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় এদিক-সেদিক ঘোরানোর পর সুমন তাজমিনকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। তাজমিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে দুর্বল হয়ে পড়লে সুমন তাঁকে কাবু করেন।
পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তাজমিনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাস্থল ছেড়ে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গোসল করেন। যাওয়ার সময় তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান। ফোনটি একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান।
ফেলে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বর ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল চট্টগ্রাম নগরের একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতে জবানবন্দি দেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতে তোলার পর বিষয়টি বোঝা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
যেভাবে উদ্ধার হয় তাজমিনের মরদেহ
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি আর স্কুলে যাননি।
তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। তাঁরা কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন তাজমিন। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাঁকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। ওই দিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান তিনি। তবে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পাননি।
পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করে পুলিশ।
এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।