অবশেষে বদলি দুর্নীতির অভিযুক্ত ঘাটাইলের ইউএনও মাহমুদুল হাসান.
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসানকে বদলি করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ঘাটাইল থেকে সরিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিবের একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। তবে মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তাঁকে বদলি করা হয়েছে কি না, প্রজ্ঞাপনে তা উল্লেখ করা হয়নি।ঘাটাইলে দায়িত্ব পালনকালে মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে টেন্ডার আটকে অর্থ দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি অর্থ ছাড়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদপত্র ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।টেন্ডার আটকে অর্থ দাবির অভিযোগলক্ষিন্দর ইউনিয়নে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের বনায়ন প্রকল্পের গাছ কাটার কাজ দরপত্রের মাধ্যমে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, কাজের একপর্যায়ে মাহমুদুল হাসান ঘাটাইলের ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেন।ঠিকাদারদের অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গাছের মেজারমেন্ট ও মূল্য নির্ধারণে অসঙ্গতির কথা বলে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে কাজ পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করা হয়। তাঁদের দাবি, প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হলেও পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ৩ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের ঘাটাইলের ব্যবস্থাপক সেফায়েত উল্লাহ তখন বলেন, বিধি অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে সর্বোচ্চ দরদাতাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। মেজারমেন্ট ও মূল্য নির্ধারণেও কোনো অসঙ্গতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।এডিবির ৪৬ লাখ টাকা নিয়েও প্রশ্নমাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিবির অতিরিক্ত বরাদ্দের ৪৬ লাখ টাকা প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই উত্তোলনের অভিযোগও ওঠে।স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই কোটেশনের মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামও আসে।এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অর্থ কেটে রাখার চাপ এবং বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন, স্কুল মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট বসানোসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদনের ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেন স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দা।এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। পরে ফোন ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।এর মধ্যে আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে মাহমুদুল হাসানকে ঘাটাইলের ইউএনও পদ থেকে বদলি করা হলো।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসানকে বদলি করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ঘাটাইল থেকে সরিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিবের একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। তবে মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তাঁকে বদলি করা হয়েছে কি না, প্রজ্ঞাপনে তা উল্লেখ করা হয়নি।
ঘাটাইলে দায়িত্ব পালনকালে মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে টেন্ডার আটকে অর্থ দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি অর্থ ছাড়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদপত্র ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
টেন্ডার আটকে অর্থ দাবির অভিযোগ
লক্ষিন্দর ইউনিয়নে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের বনায়ন প্রকল্পের গাছ কাটার কাজ দরপত্রের মাধ্যমে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, কাজের একপর্যায়ে মাহমুদুল হাসান ঘাটাইলের ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেন।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গাছের মেজারমেন্ট ও মূল্য নির্ধারণে অসঙ্গতির কথা বলে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে কাজ পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করা হয়। তাঁদের দাবি, প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হলেও পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ৩ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।
প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের ঘাটাইলের ব্যবস্থাপক সেফায়েত উল্লাহ তখন বলেন, বিধি অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে সর্বোচ্চ দরদাতাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। মেজারমেন্ট ও মূল্য নির্ধারণেও কোনো অসঙ্গতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
এডিবির ৪৬ লাখ টাকা নিয়েও প্রশ্ন
মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিবির অতিরিক্ত বরাদ্দের ৪৬ লাখ টাকা প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই উত্তোলনের অভিযোগও ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই কোটেশনের মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামও আসে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অর্থ কেটে রাখার চাপ এবং বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন, স্কুল মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট বসানোসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদনের ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেন স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। পরে ফোন ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর মধ্যে আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে মাহমুদুল হাসানকে ঘাটাইলের ইউএনও পদ থেকে বদলি করা হলো।