ইথিওপিয়া–ইরিত্রিয়া উত্তেজনা বাড়ছে: তিগ্রাই সংঘাত কি হর্ন অব আফ্রিকায় বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে?
সঞ্জয় মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
ইথিওপিয়া–ইরিত্রিয়া উত্তেজনা বাড়ছে: তিগ্রাই সংঘাত কি হর্ন অব আফ্রিকায় বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে?.
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রাইয়ে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। ৭ অক্টোবর তিগ্রাইয়ের আদিগ্রাত শহরে ইরিত্রীয় সেনাদের দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী তিগ্রাইয়ের রাজধানী মেকেল্লে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে। ফলে তিগ্রাইয়ের অভ্যন্তরীণ সংঘাত সীমান্ত পেরিয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।তিগ্রাইয়ের বর্তমান সংকটের শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর। সেদিন তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (TPLF) ও ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের বাহিনীর মধ্যে বড় ধরনের লড়াই শুরু হয়। শুরুতে তিগ্রাই বাহিনী মেকেল্লে, আকসুম ও শিরের বিমানবন্দর দখলের দাবি করে। পরে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা পাল্টা অভিযান চালায়। তারা মেকেল্লের বিমানবন্দর পুনর্দখল করে এবং শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত ২০২০ থেকে ২০২২ সালের তিগ্রাই যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই যুদ্ধের অবসানে ২০২২ সালের নভেম্বরে আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় প্রিটোরিয়া চুক্তি হয়। তবে চুক্তির পরও রাজনৈতিক বিরোধ, আঞ্চলিক প্রশাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ পুরোপুরি কাটেনি। চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষণ বলছে, চুক্তির দুর্বল বাস্তবায়ন এবং ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও TPLF-এর মধ্যে আস্থার সংকট নতুন সংঘাতের পথ তৈরি করেছে।পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ইথিওপিয়া–ইরিত্রিয়া সম্পর্কের অবনতি। ১ অক্টোবর ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়ায় তাদের দূতাবাস বন্ধ করে ১০ জন ইরিত্রীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। ইথিওপিয়ার অভিযোগ ছিল, ইরিত্রিয়া TPLF-নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটকে সহায়তা করছে। ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা ইথিওয়ার সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরপর আফ্রিকান ইউনিয়ন ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও মিশরকে সংযত থাকার আহ্বান জানায়।৭ অক্টোবর আদিগ্রাত শহরে ইরিত্রীয় সেনাদের চলাচলের খবর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রয়টার্সকে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তাঁরা ইরিত্রীয় সেনাদের দুটি সামরিক ট্রাকে করে শহরের মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছেন। তবে ইরিত্রিয়া তিগ্রাইয়ে সেনা পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছে। ফলে ওই সেনাদের উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং ইরিত্রিয়া সরাসরি নতুন সংঘাতে জড়িয়েছে কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকারের প্রশ্ন। ১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর ইথিওপিয়া স্থলবেষ্টিত দেশে পরিণত হয়। লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকার ফিরে পাওয়ার বিষয়টি ইথিওপিয়ার জন্য দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রশ্ন। ইরিত্রিয়ার আসাবসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর রয়েছে। ফলে তিগ্রাইয়ের সংঘাতের সঙ্গে সমুদ্রপথের ভূরাজনীতি যুক্ত হওয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ছে। চ্যাথাম হাউসও সতর্ক করেছে, ইথিওপিয়ার লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকারের আকাঙ্ক্ষা ইরিত্রিয়ার সঙ্গে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।তিগ্রাই সংকটে ইথিওপিয়ার সঙ্গে মিশর ও সুদানের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নীল নদের পানি ও গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম নিয়ে মিশরের সঙ্গে ইথিওপিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। অন্যদিকে সুদানের গৃহযুদ্ধের সঙ্গেও ইথিওপিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বিরোধী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ করছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলোই সংশ্লিষ্ট পক্ষ অস্বীকার করেছে।জাতিসংঘও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উত্তর ইথিওপিয়ার অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশ এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান। আফ্রিকান ইউনিয়নের নেতৃত্বে প্রিটোরিয়া কাঠামোর আওতায় সংলাপ পুনরায় শুরু করার পক্ষেও জাতিসংঘ অবস্থান নিয়েছে।সংঘাতের কারণে মানবিক পরিস্থিতিও খারাপ হচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিগ্রাইয়ে আটকে থাকা ১৯ জন মানবিক সহায়তা কর্মীকে ৩০ সেপ্টেম্বর সড়কপথে গন্ডারে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিমান চলাচল বন্ধ, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং নিরাপদ সড়কের অভাবে মানবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নতুন সংঘাত আগের যুদ্ধ থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।তবে তিগ্রাইয়ের সংঘাত শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ঝুঁকি বাড়বে যদি ইরিত্রীয় বাহিনী সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং ইথিওপিয়া–ইরিত্রিয়া সীমান্তে সামরিক অভিযান ছড়িয়ে পড়ে। সুদান বা অন্য কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কোনো পক্ষকে সহায়তা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।এখন তাই শুধু মেকেল্লের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেটিই বড় প্রশ্ন নয়। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—ইথিওপিয়া ও TPLF আবার আলোচনায় ফিরবে কি না, ইরিত্রীয় বাহিনীর কথিত উপস্থিতি কতটা বিস্তৃত হয় এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ উত্তেজনা কমাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, তিগ্রাইয়ের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব ইরিত্রিয়া ও সুদান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সামরিক সংঘাত সীমিত রাখা এবং রাজনৈতিক সংলাপের পথ তৈরি করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।তিগ্রাইয়ের নতুন সংঘাত আপাতত ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংকট। কিন্তু এর সঙ্গে ইরিত্রিয়ার কূটনৈতিক বিচ্ছেদ, সীমান্তে ইরিত্রীয় সেনাদের উপস্থিতির খবর, লোহিত সাগরে ইথিওপিয়ার প্রবেশাধিকারের প্রশ্ন এবং সুদান–মিশরকে ঘিরে বিরোধ যুক্ত হয়েছে। ফলে সংকটটি এখন হর্ন অব আফ্রিকার বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে সংঘাত আরও ছড়ায়, নাকি রাজনৈতিক সংলাপের দিকে অগ্রগতি হয়—তার ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রাইয়ে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। ৭ অক্টোবর তিগ্রাইয়ের আদিগ্রাত শহরে ইরিত্রীয় সেনাদের দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী তিগ্রাইয়ের রাজধানী মেকেল্লে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে। ফলে তিগ্রাইয়ের অভ্যন্তরীণ সংঘাত সীমান্ত পেরিয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিগ্রাইয়ের বর্তমান সংকটের শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর। সেদিন তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (TPLF) ও ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের বাহিনীর মধ্যে বড় ধরনের লড়াই শুরু হয়। শুরুতে তিগ্রাই বাহিনী মেকেল্লে, আকসুম ও শিরের বিমানবন্দর দখলের দাবি করে। পরে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা পাল্টা অভিযান চালায়। তারা মেকেল্লের বিমানবন্দর পুনর্দখল করে এবং শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত ২০২০ থেকে ২০২২ সালের তিগ্রাই যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই যুদ্ধের অবসানে ২০২২ সালের নভেম্বরে আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় প্রিটোরিয়া চুক্তি হয়। তবে চুক্তির পরও রাজনৈতিক বিরোধ, আঞ্চলিক প্রশাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ পুরোপুরি কাটেনি। চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষণ বলছে, চুক্তির দুর্বল বাস্তবায়ন এবং ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও TPLF-এর মধ্যে আস্থার সংকট নতুন সংঘাতের পথ তৈরি করেছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ইথিওপিয়া–ইরিত্রিয়া সম্পর্কের অবনতি। ১ অক্টোবর ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়ায় তাদের দূতাবাস বন্ধ করে ১০ জন ইরিত্রীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। ইথিওপিয়ার অভিযোগ ছিল, ইরিত্রিয়া TPLF-নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটকে সহায়তা করছে। ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা ইথিওয়ার সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরপর আফ্রিকান ইউনিয়ন ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও মিশরকে সংযত থাকার আহ্বান জানায়।
৭ অক্টোবর আদিগ্রাত শহরে ইরিত্রীয় সেনাদের চলাচলের খবর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রয়টার্সকে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তাঁরা ইরিত্রীয় সেনাদের দুটি সামরিক ট্রাকে করে শহরের মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছেন। তবে ইরিত্রিয়া তিগ্রাইয়ে সেনা পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছে। ফলে ওই সেনাদের উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং ইরিত্রিয়া সরাসরি নতুন সংঘাতে জড়িয়েছে কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকারের প্রশ্ন। ১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর ইথিওপিয়া স্থলবেষ্টিত দেশে পরিণত হয়। লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকার ফিরে পাওয়ার বিষয়টি ইথিওপিয়ার জন্য দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রশ্ন। ইরিত্রিয়ার আসাবসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর রয়েছে। ফলে তিগ্রাইয়ের সংঘাতের সঙ্গে সমুদ্রপথের ভূরাজনীতি যুক্ত হওয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ছে। চ্যাথাম হাউসও সতর্ক করেছে, ইথিওপিয়ার লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকারের আকাঙ্ক্ষা ইরিত্রিয়ার সঙ্গে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তিগ্রাই সংকটে ইথিওপিয়ার সঙ্গে মিশর ও সুদানের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নীল নদের পানি ও গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম নিয়ে মিশরের সঙ্গে ইথিওপিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। অন্যদিকে সুদানের গৃহযুদ্ধের সঙ্গেও ইথিওপিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বিরোধী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ করছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলোই সংশ্লিষ্ট পক্ষ অস্বীকার করেছে।
জাতিসংঘও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উত্তর ইথিওপিয়ার অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশ এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান। আফ্রিকান ইউনিয়নের নেতৃত্বে প্রিটোরিয়া কাঠামোর আওতায় সংলাপ পুনরায় শুরু করার পক্ষেও জাতিসংঘ অবস্থান নিয়েছে।
সংঘাতের কারণে মানবিক পরিস্থিতিও খারাপ হচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিগ্রাইয়ে আটকে থাকা ১৯ জন মানবিক সহায়তা কর্মীকে ৩০ সেপ্টেম্বর সড়কপথে গন্ডারে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিমান চলাচল বন্ধ, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং নিরাপদ সড়কের অভাবে মানবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নতুন সংঘাত আগের যুদ্ধ থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে তিগ্রাইয়ের সংঘাত শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ঝুঁকি বাড়বে যদি ইরিত্রীয় বাহিনী সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং ইথিওপিয়া–ইরিত্রিয়া সীমান্তে সামরিক অভিযান ছড়িয়ে পড়ে। সুদান বা অন্য কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কোনো পক্ষকে সহায়তা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এখন তাই শুধু মেকেল্লের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেটিই বড় প্রশ্ন নয়। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—ইথিওপিয়া ও TPLF আবার আলোচনায় ফিরবে কি না, ইরিত্রীয় বাহিনীর কথিত উপস্থিতি কতটা বিস্তৃত হয় এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ উত্তেজনা কমাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, তিগ্রাইয়ের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব ইরিত্রিয়া ও সুদান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সামরিক সংঘাত সীমিত রাখা এবং রাজনৈতিক সংলাপের পথ তৈরি করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিগ্রাইয়ের নতুন সংঘাত আপাতত ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংকট। কিন্তু এর সঙ্গে ইরিত্রিয়ার কূটনৈতিক বিচ্ছেদ, সীমান্তে ইরিত্রীয় সেনাদের উপস্থিতির খবর, লোহিত সাগরে ইথিওপিয়ার প্রবেশাধিকারের প্রশ্ন এবং সুদান–মিশরকে ঘিরে বিরোধ যুক্ত হয়েছে। ফলে সংকটটি এখন হর্ন অব আফ্রিকার বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে সংঘাত আরও ছড়ায়, নাকি রাজনৈতিক সংলাপের দিকে অগ্রগতি হয়—তার ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।