ইথিওপিয়ায় যুদ্ধের আগুন, ভাঙছে কূটনৈতিক সম্পর্ক: ইরিত্রিয়া-ইজিপ্টের সঙ্গে নতুন সংকট
বিশেষ প্রতিনিধি সঞ্জয় মজুমদার
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
ইথিওপিয়ায় যুদ্ধের আগুন, ভাঙছে কূটনৈতিক সম্পর্ক: ইরিত্রিয়া-ইজিপ্টের সঙ্গে নতুন সংকট.
উত্তর ইথিওপিয়ায় সরকারি বাহিনী ও সশস্ত্র বিরোধী জোটের সংঘাত তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই ইরিত্রিয়া ও মিসরের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। ১ অক্টোবর ইরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারায় নিজেদের দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দেয় ইথিওপিয়া। আদ্দিস আবাবায় থাকা ১০ ইরিত্রীয় কূটনীতিককেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পর ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়।একই সময়ে মিসরের এক কূটনীতিককে বহিষ্কার করে ইথিওপিয়া। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে একজন ইথিওপীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে কায়রো। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরিত্রীয় কূটনীতিকেরা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আসমারায় দূতাবাস বন্ধের কারণ হিসেবে ইরিত্রিয়ার ‘সরাসরি ও পরোক্ষ বৈরী কর্মকাণ্ডের’ কথাও বলা হয়েছে।ইরিত্রিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইথিওপিয়াই দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতামূলক নীতি অনুসরণ করছে।এর মধ্যেই ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে সরকারি বাহিনী ও টিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) নেতৃত্বাধীন একটি সশস্ত্র জোটের মধ্যে বড় ধরনের লড়াই চলছে। জোটে টিগ্রাইয়ের পাশাপাশি আমহারা, আফার, সোমালি ও বেনিশাঙ্গুল-গুমুজ অঞ্চলের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে।উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনী টিগ্রাইয়ের রাজধানী মেকেলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। অন্যদিকে টিগ্রাই পিস ফোর্সেস মেকেলের কাছাকাছি মিলাজাত দখলের দাবি করেছে। এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।মেকেলে এলাকায় ব্যাংক ও দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে বেসামরিক মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনও ব্যাহত হচ্ছে।সংঘাতের প্রভাব রাজধানী আদ্দিস আবাবাতেও পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১ অক্টোবর রাতে শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে। এর আগে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করেছিল কর্তৃপক্ষ। বিরোধী জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রাজধানীতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তবে হামলার দায় ও লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে সব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।মিসরের সঙ্গে ইথিওপিয়ার বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। নীলনদের পানি ও গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (জিইআরডি) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। নীলনদের পানিপ্রবাহে বাঁধটির প্রভাব নিয়ে মিসর উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।তবে বর্তমান কূটনৈতিক উত্তেজনার তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে ইথিওপিয়া মিসরের বিরুদ্ধে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিরোধী জোটকে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছে। মিসর এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইথিওপিয়া একই ধরনের অভিযোগ করেছে ইরিত্রিয়া ও সুদানের বিরুদ্ধেও। তিন দেশই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।সুদানের সেনাবাহিনীও ইথিওপিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তি নেই এবং বিরোধ মেটাতে কূটনৈতিক সংলাপের প্রয়োজন।ফলে ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাসও যুক্ত হয়েছে। এতে হর্ন অব আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে সুদান বা সোমালিয়াকে নতুন করে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত প্রমাণ নেই।আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) ইতোমধ্যে ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও মিসরকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিদ্যমান কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর কথাও বলেছে সংস্থাটি।পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা এখন যুদ্ধের বিস্তার এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সম্পৃক্ততার মাত্রা। ইরিত্রিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া, মিসরের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কার এবং উত্তরাঞ্চলে চলমান লড়াই একই সময়ে ঘটছে। ফলে হর্ন অব আফ্রিকার পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সংলাপ ও সংযমের ওপরই এখন জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
উত্তর ইথিওপিয়ায় সরকারি বাহিনী ও সশস্ত্র বিরোধী জোটের সংঘাত তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই ইরিত্রিয়া ও মিসরের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। ১ অক্টোবর ইরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারায় নিজেদের দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দেয় ইথিওপিয়া। আদ্দিস আবাবায় থাকা ১০ ইরিত্রীয় কূটনীতিককেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পর ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়।
একই সময়ে মিসরের এক কূটনীতিককে বহিষ্কার করে ইথিওপিয়া। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে একজন ইথিওপীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে কায়রো। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরিত্রীয় কূটনীতিকেরা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আসমারায় দূতাবাস বন্ধের কারণ হিসেবে ইরিত্রিয়ার ‘সরাসরি ও পরোক্ষ বৈরী কর্মকাণ্ডের’ কথাও বলা হয়েছে।
ইরিত্রিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইথিওপিয়াই দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতামূলক নীতি অনুসরণ করছে।
এর মধ্যেই ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে সরকারি বাহিনী ও টিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) নেতৃত্বাধীন একটি সশস্ত্র জোটের মধ্যে বড় ধরনের লড়াই চলছে। জোটে টিগ্রাইয়ের পাশাপাশি আমহারা, আফার, সোমালি ও বেনিশাঙ্গুল-গুমুজ অঞ্চলের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনী টিগ্রাইয়ের রাজধানী মেকেলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। অন্যদিকে টিগ্রাই পিস ফোর্সেস মেকেলের কাছাকাছি মিলাজাত দখলের দাবি করেছে। এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মেকেলে এলাকায় ব্যাংক ও দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে বেসামরিক মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনও ব্যাহত হচ্ছে।
সংঘাতের প্রভাব রাজধানী আদ্দিস আবাবাতেও পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১ অক্টোবর রাতে শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে। এর আগে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করেছিল কর্তৃপক্ষ। বিরোধী জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রাজধানীতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তবে হামলার দায় ও লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে সব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
মিসরের সঙ্গে ইথিওপিয়ার বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। নীলনদের পানি ও গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (জিইআরডি) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। নীলনদের পানিপ্রবাহে বাঁধটির প্রভাব নিয়ে মিসর উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
তবে বর্তমান কূটনৈতিক উত্তেজনার তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে ইথিওপিয়া মিসরের বিরুদ্ধে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিরোধী জোটকে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছে। মিসর এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইথিওপিয়া একই ধরনের অভিযোগ করেছে ইরিত্রিয়া ও সুদানের বিরুদ্ধেও। তিন দেশই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সুদানের সেনাবাহিনীও ইথিওপিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তি নেই এবং বিরোধ মেটাতে কূটনৈতিক সংলাপের প্রয়োজন।
ফলে ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাসও যুক্ত হয়েছে। এতে হর্ন অব আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে সুদান বা সোমালিয়াকে নতুন করে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) ইতোমধ্যে ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও মিসরকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিদ্যমান কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর কথাও বলেছে সংস্থাটি।
পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা এখন যুদ্ধের বিস্তার এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সম্পৃক্ততার মাত্রা। ইরিত্রিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া, মিসরের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কার এবং উত্তরাঞ্চলে চলমান লড়াই একই সময়ে ঘটছে। ফলে হর্ন অব আফ্রিকার পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সংলাপ ও সংযমের ওপরই এখন জোর দেওয়া হচ্ছে।