জাতিসংঘে শান্তির ডাক, মাঠে যুদ্ধ—বিশ্ব কূটনীতির এই দ্বৈত বাস্তবতা কোথায় যাচ্ছে?.
বিশ্বের ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিউইয়র্কে চলছে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক। ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই বিতর্কে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত অব্যাহত থাকায় জাতিসংঘের শান্তির আহ্বান ও বাস্তব ভূরাজনীতির ব্যবধানও স্পষ্ট হচ্ছে।এবারের অধিবেশন বসেছে একাধিক বড় আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যে। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ২৫ সেপ্টেম্বর মহামারি প্রতিরোধ ও প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও রয়েছে। তবে এবারের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে যুদ্ধ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা।জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাধারণ পরিষদে তাঁর শেষ ভাষণে শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলো দ্বৈত মানদণ্ড ছাড়াই সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।কিন্তু জাতিসংঘের মঞ্চের বাইরে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যেও সংঘাত অব্যাহত। গাজা ও ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।ইরান সংকট এই বাস্তবতার একটি বড় উদাহরণ। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে চুক্তি না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন।পরদিন জাতিসংঘে বক্তব্য দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের সমালোচনা করেন। তবে একই সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথাও জানান। ফলে একই সময়ে কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ—দুই দিকই দেখা যাচ্ছে।জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনো অনেক দূরে।হরমুজ প্রণালি নিয়েও আলোচনা চলছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দিতে পারে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত। ফলে হরমুজ ঘিরে অস্থিরতা আঞ্চলিক সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।এখানেই জাতিসংঘের সামনে বড় প্রশ্নটি দেখা দিচ্ছে। বিশ্বনেতারা কি শুধু নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরবেন, নাকি এসব বক্তব্যকে কার্যকর আলোচনায় রূপ দিতে পারবেন?জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে প্রায় সব রাষ্ট্র একই জায়গায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারে। কিন্তু বড় শক্তিগুলোর বিরোধ, নিরাপত্তা পরিষদের রাজনৈতিক বিভাজন এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোর ভিন্ন স্বার্থ কূটনৈতিক উদ্যোগকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়া কঠিন করে তুলছে।বিশ্ব রাজনীতিতে আরেকটি পরিবর্তনও স্পষ্ট হচ্ছে। জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি বড় শক্তিগুলোর দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ। ফলে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের একটি অংশ জাতিসংঘের মঞ্চের বাইরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও শক্তির ভারসাম্যের মধ্য দিয়েও নির্ধারিত হচ্ছে।এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়ছে। যুদ্ধ ও সংঘাত জ্বালানি, পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ে।তবে এবারের সাধারণ পরিষদের আলোচনায় শুধু যুদ্ধ নয়, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নয়ন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারও গুরুত্ব পাচ্ছে। জাতিসংঘ এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহকে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার এবং শান্তি, মর্যাদা ও সমতার জন্য সম্মিলিত পদক্ষেপের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।সব মিলিয়ে ৮১তম সাধারণ পরিষদ বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে। একদিকে নিউইয়র্কে শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন ও সহযোগিতার আহ্বান। অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক চাপ ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো কতটা বাস্তব অগ্রগতি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে, সেটিই হবে এই অধিবেশনের বড় পরীক্ষা। জাতিসংঘের সামনে তাই শুধু নতুন কোনো প্রস্তাব গ্রহণের প্রশ্ন নয়। বড় প্রশ্ন হলো, যুদ্ধের বাস্তবতার মধ্যে বহুপাক্ষিক কূটনীতি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
বিশ্বের ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিউইয়র্কে চলছে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক। ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই বিতর্কে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত অব্যাহত থাকায় জাতিসংঘের শান্তির আহ্বান ও বাস্তব ভূরাজনীতির ব্যবধানও স্পষ্ট হচ্ছে।
এবারের অধিবেশন বসেছে একাধিক বড় আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যে। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ২৫ সেপ্টেম্বর মহামারি প্রতিরোধ ও প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও রয়েছে। তবে এবারের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে যুদ্ধ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাধারণ পরিষদে তাঁর শেষ ভাষণে শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলো দ্বৈত মানদণ্ড ছাড়াই সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
কিন্তু জাতিসংঘের মঞ্চের বাইরে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যেও সংঘাত অব্যাহত। গাজা ও ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ইরান সংকট এই বাস্তবতার একটি বড় উদাহরণ। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে চুক্তি না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন।
পরদিন জাতিসংঘে বক্তব্য দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের সমালোচনা করেন। তবে একই সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথাও জানান। ফলে একই সময়ে কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ—দুই দিকই দেখা যাচ্ছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনো অনেক দূরে।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও আলোচনা চলছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দিতে পারে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত। ফলে হরমুজ ঘিরে অস্থিরতা আঞ্চলিক সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
এখানেই জাতিসংঘের সামনে বড় প্রশ্নটি দেখা দিচ্ছে। বিশ্বনেতারা কি শুধু নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরবেন, নাকি এসব বক্তব্যকে কার্যকর আলোচনায় রূপ দিতে পারবেন?
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে প্রায় সব রাষ্ট্র একই জায়গায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারে। কিন্তু বড় শক্তিগুলোর বিরোধ, নিরাপত্তা পরিষদের রাজনৈতিক বিভাজন এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোর ভিন্ন স্বার্থ কূটনৈতিক উদ্যোগকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়া কঠিন করে তুলছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে আরেকটি পরিবর্তনও স্পষ্ট হচ্ছে। জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি বড় শক্তিগুলোর দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ। ফলে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের একটি অংশ জাতিসংঘের মঞ্চের বাইরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও শক্তির ভারসাম্যের মধ্য দিয়েও নির্ধারিত হচ্ছে।
এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়ছে। যুদ্ধ ও সংঘাত জ্বালানি, পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ে।
তবে এবারের সাধারণ পরিষদের আলোচনায় শুধু যুদ্ধ নয়, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নয়ন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারও গুরুত্ব পাচ্ছে। জাতিসংঘ এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহকে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার এবং শান্তি, মর্যাদা ও সমতার জন্য সম্মিলিত পদক্ষেপের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।
সব মিলিয়ে ৮১তম সাধারণ পরিষদ বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে। একদিকে নিউইয়র্কে শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন ও সহযোগিতার আহ্বান। অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক চাপ ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।
আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো কতটা বাস্তব অগ্রগতি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে, সেটিই হবে এই অধিবেশনের বড় পরীক্ষা। জাতিসংঘের সামনে তাই শুধু নতুন কোনো প্রস্তাব গ্রহণের প্রশ্ন নয়। বড় প্রশ্ন হলো, যুদ্ধের বাস্তবতার মধ্যে বহুপাক্ষিক কূটনীতি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।