বুধবারবাংলা: ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

ইথিওপিয়া–ইরিত্রিয়া উত্তেজনার মধ্যে চার দেশের সম্মেলন: হর্ন অব আফ্রিকায় নতুন মেরুকরণ?

ইথিওপিয়া–ইরিত্রিয়া উত্তেজনার মধ্যে চার দেশের সম্মেলন: হর্ন অব আফ্রিকায় নতুন মেরুকরণ?
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কেরও অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মিশরের নিউ আলামেইনে চার দেশের নেতারা বৈঠক করেছেন।

৪ অক্টোবরের ওই সম্মেলনে অংশ নেয় মিশর, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া ও সুদান। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, লোহিত সাগর, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে চার দেশ একটি যৌথ ঘোষণা দেয়।

ইথিওপিয়ার তিগ্রাই অঞ্চলে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে তিগ্রাই-নেতৃত্বাধীন একটি সশস্ত্র জোটকে সহায়তার অভিযোগ তোলে। ইরিত্রিয়া, মিশর ও সুদান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এরই মধ্যে ১ অক্টোবর ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়ায় নিজেদের দূতাবাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে ১০ ইরিত্রীয় কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয় দেশটি। পরে ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

এ পরিস্থিতিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

চার দেশের সম্মেলনটি এমন এক সময়ে হলো, যখন হর্ন অব আফ্রিকার কয়েকটি সংকট পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে নীল নদের পানি এবং গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

অন্যদিকে লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকার নিয়ে ইথিওপিয়ার আগ্রহও ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল বিষয়। সুদান ও সোমালিয়ারও ইথিওপিয়ার সঙ্গে পৃথক নিরাপত্তা ও সীমান্ত-সংক্রান্ত স্বার্থ রয়েছে।

এই বাস্তবতায় মিশর, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া ও সুদানের সমন্বয় আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে নিউ আলামেইনের সম্মেলনকে সরাসরি ইথিওপিয়াবিরোধী জোট হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। মিশরের প্রেসিডেন্সির প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মানের কথা বলা হয়েছে। বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি আন্তঃসীমান্ত ইস্যুতে প্রতিযোগিতা বা সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

তবে মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। তিগ্রাইয়ে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। একই সময়ে মিশর, সুদান, সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে সমন্বয়ও বাড়ছে।

এতে হর্ন অব আফ্রিকার শক্তির ভারসাম্য আরও জটিল হয়ে উঠছে। উদ্বেগের বড় বিষয় হলো, ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরোধের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে সংঘাতের প্রভাব তিগ্রাই ছাড়িয়ে বৃহত্তর হর্ন অব আফ্রিকা ও লোহিত সাগর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর মানবিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। তিগ্রাইয়ে নতুন সংঘাতের কারণে বেসামরিক মানুষের চলাচল, বাজার ও প্রয়োজনীয় সেবা ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে মেকেলে এলাকায় সংঘাতের পর বিমান চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনে বিঘ্নের কথা উঠে এসেছে।

সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।

এখন প্রশ্ন হলো, নিউ আলামেইনের চারদেশীয় সমন্বয় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে কি না। নাকি ইথিওপিয়াকে ঘিরে বিদ্যমান বিরোধের কারণে এটি বৃহত্তর মেরুকরণের অংশ হয়ে উঠবে।

আপাতত চার দেশ শান্তিপূর্ণ সমাধান ও সহযোগিতার কথা বলছে। তবে তিগ্রাইয়ের যুদ্ধ, নীল নদের পানি, লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকার এবং সুদান-সোমালিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি—এই চারটি বিষয় আগামী দিনে হর্ন অব আফ্রিকার সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলা, ২৩ ভারতীয় নাবিক উদ্ধার

কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলা, ২৩ ভারতীয় নাবিক উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ত
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।