রবিবার|বাংলা: ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|ইংরেজি: ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ|আরবি: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

সংস্কার কোথায় দাঁড়িয়ে, প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে

সংস্কার কোথায় দাঁড়িয়ে, প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে
ছবি নিজস্ব প্রতিবেদক
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কার, জবাবদিহি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এখনো নানা বাধা রয়েছে বলে মনে করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) গবেষণা প্রকল্প ‘রিফর্ম ওয়াচ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘সংস্কার কোথায় দাঁড়িয়ে? অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে প্রস্তুত মধ্যবর্তী প্রতিবেদনের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

সংলাপে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ৮৪টি বিষয়ের মধ্যে ১৬টিতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল, তবে সবগুলো বিএনপির দেওয়া নয়। বিভিন্ন কমিশনের প্রস্তাব এমনভাবে করা হয়েছিল, যাতে ‘বিএনপিকে হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটতে দেওয়া হয়েছে’। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত সরকারকেই বাস্তবায়ন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ঐকমত্য কমিশনে এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। ৫০টি সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি আরও ৫০টি আসনে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তাঁর মতে, বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে সংস্কার বাস্তবায়ন করাই বাস্তবসম্মত পথ।

বিএনপির সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি, নারীর প্রতি সহিংসতা, বেকারত্ব ও বৈষম্য বেড়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখা, আমলাতন্ত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং তরুণদের মধ্যে সহনশীলতা বাড়ানো জরুরি।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে সংস্কার নিয়ে তৈরি ঐকমত্য দুর্বল হয়েছে। সংসদের বিদ্যমান কমিটিগুলো সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিল আকারে পাস করতে পারে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার কমিশন, বিচারক নিয়োগ, উচ্চকক্ষ গঠন ও পুলিশ সংস্কারে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাসদের রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধ, সংসদের কাছে সরকারের জবাবদিহি, নারীর প্রকৃত অংশীদারিত্ব, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার নিশ্চিত করতে হবে।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে আমলাতন্ত্রের সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক ঐক্য দুর্বল হলে অপশক্তির ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

সংলাপে জাসদ, এবি পার্টি, সিপিবি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক, আইনজীবী ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। বক্তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, জাতিগোষ্ঠীর অধিকার, বিচার বিভাগ ও পুলিশ সংস্কার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া; গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন মূলত ধারাবাহিক চর্চা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষয়।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬