রবিবার|বাংলা: ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|ইংরেজি: ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ|আরবি: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকিতে রাষ্ট্রীয় স্থাপনা, তিতাসে ভরাটের অভিযোগে উদ্বেগ

মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকিতে রাষ্ট্রীয় স্থাপনা, তিতাসে ভরাটের অভিযোগে উদ্বেগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে জেলার সরাইল উপজেলায় তিতাস নদীর একটি অংশে বালু ফেলে ভরাটের ঘটনাও স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দুটি ঘটনাতেই প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশুগঞ্জ উপজেলার চর সোনারামপুর ও সোহাগপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। তাদের দাবি, অর্ধশতাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতি শুরু হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে ২৩২ কেভি জাতীয় গ্রিড লাইন, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র, দুটি রেলসেতু, সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা। পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসতভিটা, মসজিদ, মন্দির ও মাজারও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অতীতেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ড্রেজার বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে নদীভাঙনের আশঙ্কা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের।

অন্যদিকে, নদী ও খাল খননের মাধ্যমে নৌপথ সচল রাখতে সরকার যখন বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তখন সরাইল উপজেলার পাকশিমুল এলাকায় তিতাস নদীর একটি অংশ বালু ফেলে ভরাট করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকশিমুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পাশেই নদীর বড় একটি অংশে বালু মজুত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল নিশানা টাঙিয়ে বালু অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীরে বালু মজুত ও বিক্রির পাশাপাশি নদীর বিভিন্ন অংশ ভরাট করে দখলের চেষ্টা করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, নৌযান চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা এবং তীরভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরাইল থেকে অরুয়াইল সড়কের অরুয়াইল সেতুর পাশের দুটি স্থানে নদীর উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে বালু ফেলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত বালু অপসারণ এবং নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নজরে এনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাইদ বলেন, মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাকশিমুল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কুমুদ লাল দেবনাথ বলেন, বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় নদীর অংশে লাল নিশানা টাঙানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বালু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বালুর মালিক আকবর আলী মুঠোফোনে বলেন, তিনি ভাড়া নেওয়া জায়গার সীমানার মধ্যেই বালু রেখেছেন। তবে যদি কোনো অংশ নদীর মধ্যে পড়ে থাকে, তাহলে তা সরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, নদী দখলের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং তিতাস নদী দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬