রবিবার|বাংলা: ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|ইংরেজি: ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ|আরবি: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা চুক্তি’ সমর্থন করতে প্রস্তুত চীন

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা চুক্তি’ সমর্থন করতে প্রস্তুত চীন
সংগৃহীত ছবি
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পর মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে চীন। এ চুক্তিকে মার্কিন নিরাপত্তা বলয় থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে বেইজিং। 

তিন মুসলিম দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ঘিরে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, পারস্পরিক প্রতিরক্ষার এই কাঠামো ন্যাটোর পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনীয়। তবে তিনি বলেছেন, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।

চুক্তির আওতায় তিন দেশ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহায়তার সমন্বয় করবে। সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও দেশ এই কাঠামোয় যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন হাকান ফিদান। বিশেষ করে মিসরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সামরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ন্যাটোর মতো বিস্তৃত ইসলামিক নিরাপত্তা কাঠামোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে চীনের অবস্থানও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ বছর ২৬ জানুয়ারি বেইজিংয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব হুসেইন ইব্রাহিম তাহার সঙ্গে বৈঠকে চীন ও ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বেইজিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈধ অধিকার রক্ষায় চীন ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

চীন মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সভ্যতা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা—এই ৪ ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব বাড়াতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেইজিং শক্তির রাজনীতি ও ‘জঙ্গলের আইন’-এর বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো এবং চীনের ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ সরাসরি একই উদ্যোগ নয়। তবে দুটি প্রবণতা একই সময়ে এগোলে এর কৌশলগত গুরুত্ব বাড়তে পারে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তুরস্কের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক ভূমিকার কারণে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, কূটনীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সংযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মক্কা চুক্তি শুধু তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের একটি সম্ভাব্য সূচনা হিসেবেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সূত্র: সাউথ চায়না মনিংপোস্ট  
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬