অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হবে।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মধ্যেই তার নয়াদিল্লিতে আগমন ঘিরে চর্চা তুঙ্গে।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল ব্রিকস। এই সংগঠনের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে ২০২৪ সালে এতে যুক্ত হয় মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২৫ সালে ব্রিকসে যোগ দেয় ইন্দোনেশিয়া।
এবারের সম্মেলনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেমমাতি জানিয়েছেন, তেহরান শিগগিরই ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (ব্রিকস জোটের প্রতিষ্ঠিত উন্নয়ন ঋণদানকারী সংস্থা) যোগ দিতে চলেছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাতের অবসানে কোনো শান্তিচুক্তি এখনো হয়নি। তার মধ্যেই ডলার-ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প আর্থিক পথ খোঁজা তেহরানের জন্য এটি একটি বাড়তি তাগিদ হিসেবে কাজ করছে।
এহেন অবস্থায় ব্রিকস সম্মেলনে তাদের যোগদানের দিকেও সবার নজর থাকবে তা বলাই যায়।
‘ব্রিকস মুদ্রা’ নিয়ে গুঞ্জনের মাঝেই সম্প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছে, আমরা ওই দেশগুলোর থেকে একটি প্রতিশ্রুতি চাই যে, তারা মার্কিন ডলারকে প্রতিস্থাপিত করতে ব্রিকসের জন্য কোনো নতুন মুদ্রার প্রচলন করবে না। যদি তা করে সে ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে হবে তাদের।
এই হুঁশিয়ারিতে কাজ হয়নি। বরং অস্বস্তি বেড়েছে আমেরিকার।
যদিও বিকল্প পথের কোনো স্পষ্ট ছবি মেলেনি। তবু গুঞ্জন ক্রমশই বেড়েছে। এমতাবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্টের ভারতে আগমন ঘিরে নতুন করে যে হোয়াইট হাউসের উত্তেজনার পারদ চড়বে তা বলাই যায়।
প্রসঙ্গত, মার্কিন ডলারই বিশ্ববাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মুদ্রা। কিন্তু বহু দেশই বারবার অভিযোগ করেছে যে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার ‘দাদাগিরি’তে তারা ক্লান্ত।
গত অক্টোবরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন ডলারকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে ‘বড় ভুল’ করছে এবং এর ফলে রাশিয়া ডলারের বিকল্প খুঁজতে শুরুও করে দিয়েছে। সেখান থেকেই উঠে আসে ব্রিকস মুদ্রার প্রসঙ্গ।