২০২৬ বিশ্বকাপে সেরা চমক ছিল অভিষিক্ত কেপ ভার্দে। আগামী বছর ব্রাজিলে হতে যাওয়া মেয়েদের ফুটবল বিশ্বকাপে দেখা যাবে আরেক আফ্রিকান চমক—মালাউইকে।
বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে মালাউই বড় কোনো নাম নয়। আফ্রিকার ফুটবলেও দেশটি অনেকটাই আড়ালে। মেয়েদের আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে এবারই প্রথম খেলছে তারা। তবে অভিষেকের আসরেই একের পর এক চমক দেখিয়ে রূপকথা লিখেছে মালাউই। আর সেই রূপকথার শেষ হয়েছে বিশ্বকাপের টিকিট দিয়ে।
গত পরশু রাতে মরক্কোর রাবাতে কোয়ার্টার ফাইনালে আফ্রিকার পরাশক্তি ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে মালাউই। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
মালাউইয়ের এই সাফল্য কতটা চমকপ্রদ, তা বোঝা যায় ফিফা র্যাংকিংয়ে চোখ রাখলেই। মেয়েদের র্যাংকিংয়ে মালাউইয়ের অবস্থান ১৫৩ নম্বরে। সেখানে বাংলাদেশ আছে ১০৭ নম্বরে। অর্থাৎ বাংলাদেশের চেয়েও ৪৬ ধাপ পিছিয়ে থাকা দেশটি এবার খেলবে বিশ্বকাপে।
শুধু ঘানার বিপক্ষেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই চমক দেখিয়েছে মালাউই। প্রথম ম্যাচে রেকর্ড ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন ও র্যাংকিংয়ে তাদের চেয়ে ১১৭ ধাপ এগিয়ে থাকা নাইজেরিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় তারা। পরের ম্যাচে ৫৪ ধাপ এগিয়ে থাকা মিসরকেও হারায় ৩-১ গোলে।
গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জাম্বিয়ার কাছে হারলেও কোয়ার্টার ফাইনালে আবার জ্বলে ওঠে মালাউই। তিনবার বিশ্বকাপে খেলা ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের টিকিট।
অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে এই ঘানার কাছেই ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল মালাউই। সেই দলই এবার মূল আসরে ঘানাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে।
২০০২ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মালাউইয়ের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের সেমিফাইনালে ওঠা চার দলই সরাসরি ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। মালাউইয়ের আগে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে আলজেরিয়া, মরক্কো ও ক্যামেরুন।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মালাউইয়ের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মরক্কো ও ক্যামেরুন। বিশ্বকাপে অভিষেক নিশ্চিত করার পর এখন মালাউইয়ের সামনে আরও বড় ইতিহাস গড়ার সুযোগ।