পটুয়াখালীর কলাপাড়া ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ১০৭ নম্বর বরকোতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হাসান ওরফে লিটন মৃধার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টায় কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহিপুর সদর থানার বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মো. কামরুল হাসান ওরফে লিটন মৃধা দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। এ সময়ে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদে তার আত্মীয়স্বজন থাকায় এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন শহিদুল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ইট ও রড নিজের বাড়ির উন্নয়নকাজে ব্যবহার করেছেন ওই শিক্ষক। নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠদান না করে এলাকায় সালিশ-বাণিজ্য এবং অন্যের জমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকারও অভিযোগ করা হয় তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া ব্যক্তিগত নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন শহিদুল ইসলাম। তার দাবি, গত ২৪ আগস্টের পর কামরুল হাসানের কথিত ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এবং অন্যান্য অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে ১১৫/২০২৫ ও সিআর-১৫৩০/২০২৪ এবং নন-জিআর ৫৯/২০২৫ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও পরদিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন ওই শিক্ষক। এসব অনিয়মের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগমের কাছে অবগত করা হলে তিনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন না বলে তাকে নিরুৎসাহিত করেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হাসান। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত যে রায় দেবেন, আমি তা মাথা পেতে নেব। তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো কিছু করার নেই।”