রবিবার|বাংলা: ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|ইংরেজি: ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ|আরবি: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

পাঁচদোনা–চরসিন্দুর সড়কে মরা গাছের মরণফাঁদ

সামান্য বাতাসেই ভেঙে পড়ছে ডালপালা, প্রাণহানির শঙ্কায় পথচারী; দ্রুত অপসারণের দাবি
পাঁচদোনা–চরসিন্দুর সড়কে মরা গাছের মরণফাঁদ
ছবি সংগৃহীত
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
নরসিংদীর ব্যস্ত পাঁচদোনা–চরসিন্দুর আঞ্চলিক সড়কে যেন মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য মরা ও শুষ্ক গাছ যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সামান্য বাতাস কিংবা ঝড়-বৃষ্টিতে ইতিমধ্যে এসব গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের চালকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচদোনা–চরসিন্দুর আঞ্চলিক সড়কের আমতলা থেকে চর্ণগরদী এবং জামতলা বাজার হয়ে বালিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে সড়কের দুই পাশে বেশ কিছু মরা ও শুষ্ক গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। অনেক গাছের বড় বড় ডাল শুকিয়ে গেছে। কোনো কোনো গাছের কাণ্ডও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ব্যস্ত সড়কের একেবারে পাশে এমন গাছ থাকায় যেকোনো সময় পথচারী কিংবা চলন্ত যানবাহনের ওপর গাছ বা ডাল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নরসিংদী ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়মিত এই পথে চলাচল করতে হয়। একই সঙ্গে সড়কটিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত অপসারণ না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে মরা গাছগুলোর এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণ করা জরুরি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। মরা গাছগুলো দেখে সবসময় ভয় হয়—কখন কোন গাছ বা বড় ডাল ভেঙে পড়ে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এগুলো অপসারণ করা দরকার।”

আরেক পথচারী বলেন, “ঝড় বা বৃষ্টি হলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। সড়কের পাশে এমন গাছ রেখে মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে দেওয়া উচিত নয়।”

সড়ক ব্যবহারকারীরা বলছেন, গাছগুলো শুধু পথচারীদের জন্য নয়, যানবাহনের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। কোনো গাছ হঠাৎ সড়কের ওপর পড়ে গেলে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। বিশেষ করে রাতে কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ে।

জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সড়কের দুই পাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো চিহ্নিত করে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত পথচারীরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে সড়কের পাশে কোনো গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে না থাকে, সে বিষয়েও নিয়মিত নজরদারির দাবি তাদের।

এ বিষয়ে নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা-ই-রাব্বি বলেন, সড়কের দুই পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদের কাছে পত্র পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, “জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬