রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, বদলি উপপরিচালক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, বদলি উপপরিচালক
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. শাহজাহান কবিরকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পাচ্ছেন উপপরিচালক হালিমা খাতুন। তাঁর বিরুদ্ধেও অতীতে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল।

গত ৩০ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখার উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের সই করা অফিস আদেশে শাহজাহান কবিরকে বদলির কথা জানানো হয়। তাঁকে যশোরের ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারে পদায়ন করা হয়েছে।

শাহজাহান কবিরের বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতাদের অনেকে। তাঁদের আশা ছিল, কর্মকর্তা বদলের পর পাসপোর্ট অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য কমবে। বন্ধ হবে কথিত ‘চ্যানেল’ বাণিজ্য। সরকারি সেবা নিতে বাড়তি টাকা দিতে হবে না।

তবে নতুন কর্মকর্তা হিসেবে হালিমা খাতুনকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে সেই আশা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধেও অতীতে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।

‘চ্যানেল’ ব্যবস্থার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে অফিসটিকে ঘিরে কথিত ‘চ্যানেল’ ব্যবস্থার অভিযোগও সামনে আসে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দালাল বা ‘চ্যানেল’ ধরে আবেদন করলে দ্রুত কাজ হয়। সরাসরি আবেদন করতে গেলে নানা অজুহাতে ঘোরানো হয়। কথিত এই ব্যবস্থায় আবেদনকারীর ফাইলে বিশেষ কোড, ই-মেইল আইডি বা সংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব চিহ্ন দেখে সংশ্লিষ্ট ফাইল চেনা হয়। এরপর ‘চ্যানেল’-এর মাধ্যমে আসা আবেদনকারীরা অন্যদের তুলনায় দ্রুত সেবা পান।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন গড়ে ৩০০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ‘চ্যানেল’-এর মাধ্যমে প্রতিটি আবেদনে অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। সে হিসাবে প্রতি কার্যদিবসে প্রায় চার লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের তীর ছিল তৎকালীন উপপরিচালক শাহজাহান কবিরের দিকে। কথিত ‘চ্যানেল’ ব্যবস্থাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। একই অভিযোগে উপসহকারী পরিচালক মোর্শেদুল হক ও সহকারী হিসাবরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীনের নামও এসেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ‘চ্যানেল’ ছাড়া সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা অজুহাত দেখানো হতো। কখনো কাগজে ভুল, কখনো সার্ভার সমস্যা, আবার কখনো এনআইডি যাচাইয়ের কথা বলে এক কর্মকর্তা থেকে আরেক কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হতো।

আশুগঞ্জের বাসিন্দা তারেকুল ইসলাম পাসপোর্ট করতে গিয়ে এমন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁকে একাধিক কক্ষে ঘোরানো হয়। পরে পরিচিত একজনকে সঙ্গে নিয়ে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর কাজ হয়ে যায়।

বাঞ্ছারামপুরের রনি মিয়ার অভিযোগও একই রকম। তাঁর ভাষ্য, আগে পাসপোর্ট করতে এতটা হয়রানি হয়নি। এখন অফিসের ভেতরে এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে ঘুরতে হয়।

নাসিরনগরের এক আবেদনকারীও অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

এসব অভিযোগের মধ্যেই শাহজাহান কবিরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সরিয়ে যশোরের ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারে পদায়ন করা হয়েছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তালিকাতেও তাঁকে বর্তমানে ওই কেন্দ্রের উপপরিচালক হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

হালিমা খাতুনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

শাহজাহান কবিরের জায়গায় আসছেন হালিমা খাতুন। পাসপোর্ট অফিসে অনিয়মের অভিযোগ তাঁর জন্যও নতুন নয়।

২০১৯ সালে মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ওই সময় অভিযোগ ওঠে, তিনি এক মাস ধরে অফিসের হাজিরা খাতা যাচাই করেননি। সাধারণ পাসপোর্টের সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।

অভিযোগ ছিল, অতিরিক্ত টাকা না দিলে পাসপোর্টে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন ত্রুটি ধরা হতো। ২০১৯ সালে দুদকের ওই অভিযানের খবর সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

কিশোরগঞ্জেও অভিযোগ

পরবর্তী সময়ে হালিমা খাতুন কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

গত বছরের ২৮ জুলাই কিশোরগঞ্জ সদরের বাসিন্দা নাঈম ভূঞা হালিমা খাতুনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই অভিযোগের পর তাঁকে যশোরের ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারে বদলি করা হয়। এখন সেই হালিমা খাতুনকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে, একজন কর্মকর্তাকে অনিয়মের অভিযোগে সরিয়ে একই ধরনের অভিযোগে আলোচিত আরেক কর্মকর্তাকে কেন সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শুধু কর্মকর্তা বদল নয়, সংস্কারের দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাইরে থাকা কথিত দালালচক্রকে নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে উপসহকারী পরিচালক মোর্শেদুল হক ও সহকারী হিসাবরক্ষক জয়নাল আবেদীনসহ কয়েকজনের নাম এসেছে।

সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলছেন, শুধু কর্মকর্তা বদল করে সমস্যার সমাধান হবে না। পুরো সেবা ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মান্নান সরকার বলেন, শুধু কর্মকর্তা বদলি করে সমস্যার সমাধান হবে না। দালালচক্র ও অফিসের ভেতরের যোগসাজশের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী স্থায়ী প্রতিকার পাবেন।

জেলা নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রতন কান্তি দত্ত বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা সজাগ থাকলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে নাগরিকদের হয়রানি কমবে বলে তাঁরা মনে করেন।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
টেকসই উন্নয়নে গ্রামের উন্নয়ন জরুরি, সরাইলে জেলা পরিষদ প্রশাসক

টেকসই উন্নয়নে গ্রামের উন্নয়ন জরুরি, সরাইলে জেলা পরিষদ প্রশাসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।