বাবার হত্যা মামলার বাদীকেই হত্যার চেষ্টার অভিযোগ.
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত হারিচ আহম্মেদ হত্যা মামলার বাদী বাবুল মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। গত রোববার সকাল ৯টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু সংলগ্ন টিয়াখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।বাবুল মিয়ার অভিযোগ, তাঁকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী সীমা বেগমের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তিনি রক্ষা পান।পরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাবুলকে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়েও একদল লোক তাঁকে খুঁজতে থাকে বলে অভিযোগ তাঁর স্ত্রীর। পরে প্রাণভয়ে হাসপাতাল থেকে কৌশলে বেরিয়ে অন্যত্র চলে যান বাবুল। রাতে আবারও ওই ব্যক্তিরা হাসপাতালে এসেছিলেন বলে দাবি করেন সীমা বেগম।এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন বাবুল মিয়া। একই সঙ্গে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজনও তাঁকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।বাবুল মিয়া বলেন, গত ১৯ জুলাই তাঁর বাবা হারিচ আহম্মেদকে পিটিয়ে ও কাদাপানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে তাঁর অভিযোগ। এ সময় তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে নির্যাতন করা হয়।বাবার হত্যার বিচার চেয়ে গত ২১ জুলাই মামলা করেন বাবুল। এরপর থেকেই একই মামলার আসামিরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করছেন বলে অভিযোগ তাঁর।বাবুলের ভাষ্য, কলাপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে ডেকে নিয়ে মামলা তুলে আপস করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত রোববার মামলার হাজিরা দিতে কলাপাড়া আদালতে যাওয়ার পথে টিয়াখালী এলাকায় তাঁর গতিরোধ করা হয়।বাবুলের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী তখন সঙ্গে ছিলেন। তাঁকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয়। হত্যা মামলার আসামি জসীম খন্দকারের নেতৃত্বে খলিলসহ কয়েকজন এ হামলা চালান বলে অভিযোগ তাঁর।মারধরের পর রক্তাক্ত অবস্থায় আদালতে জিআরওর কাছে যান বাবুল। পরে তাঁকে কলাপাড়া থানায় পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।বাবুলের স্ত্রী সীমা বেগম বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পরও একদল লোক তাঁর স্বামীকে খুঁজতে থাকে। পরে প্রাণভয়ে কৌশলে তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। যেকোনো সময় তাঁকেও শ্বশুরের মতো হত্যা করা হতে পারে।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জসীম খন্দকার। তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি কৃষিক্ষেতে কাজ করছিলেন। এর প্রমাণ পুলিশের কাছে রয়েছে। তাঁকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। হারিচ আহম্মেদের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন।কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মারামারির কোনো তথ্য পাননি। বাবুল মিয়া চাইলে আদালতে মামলা করতে পারেন।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত হারিচ আহম্মেদ হত্যা মামলার বাদী বাবুল মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। গত রোববার সকাল ৯টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু সংলগ্ন টিয়াখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বাবুল মিয়ার অভিযোগ, তাঁকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী সীমা বেগমের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তিনি রক্ষা পান।
পরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাবুলকে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়েও একদল লোক তাঁকে খুঁজতে থাকে বলে অভিযোগ তাঁর স্ত্রীর। পরে প্রাণভয়ে হাসপাতাল থেকে কৌশলে বেরিয়ে অন্যত্র চলে যান বাবুল। রাতে আবারও ওই ব্যক্তিরা হাসপাতালে এসেছিলেন বলে দাবি করেন সীমা বেগম।
এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন বাবুল মিয়া। একই সঙ্গে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজনও তাঁকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।
বাবুল মিয়া বলেন, গত ১৯ জুলাই তাঁর বাবা হারিচ আহম্মেদকে পিটিয়ে ও কাদাপানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে তাঁর অভিযোগ। এ সময় তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে নির্যাতন করা হয়।
বাবার হত্যার বিচার চেয়ে গত ২১ জুলাই মামলা করেন বাবুল। এরপর থেকেই একই মামলার আসামিরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
বাবুলের ভাষ্য, কলাপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে ডেকে নিয়ে মামলা তুলে আপস করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত রোববার মামলার হাজিরা দিতে কলাপাড়া আদালতে যাওয়ার পথে টিয়াখালী এলাকায় তাঁর গতিরোধ করা হয়।
বাবুলের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী তখন সঙ্গে ছিলেন। তাঁকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয়। হত্যা মামলার আসামি জসীম খন্দকারের নেতৃত্বে খলিলসহ কয়েকজন এ হামলা চালান বলে অভিযোগ তাঁর।
মারধরের পর রক্তাক্ত অবস্থায় আদালতে জিআরওর কাছে যান বাবুল। পরে তাঁকে কলাপাড়া থানায় পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
বাবুলের স্ত্রী সীমা বেগম বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পরও একদল লোক তাঁর স্বামীকে খুঁজতে থাকে। পরে প্রাণভয়ে কৌশলে তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। যেকোনো সময় তাঁকেও শ্বশুরের মতো হত্যা করা হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জসীম খন্দকার। তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি কৃষিক্ষেতে কাজ করছিলেন। এর প্রমাণ পুলিশের কাছে রয়েছে। তাঁকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। হারিচ আহম্মেদের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মারামারির কোনো তথ্য পাননি। বাবুল মিয়া চাইলে আদালতে মামলা করতে পারেন।