ছবি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় তিতাস নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। চার দফায় সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করতে না পেরে পঞ্চম দফায় মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ৫ থেকে ৬টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের। সন্ধ্যার পর নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামে তিতাস নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর মাঝখানে প্রায় ৪০ মিটার স্প্যান এখনও বসানো হয়নি। সেতুর ওপরের অংশের কাজও অসমাপ্ত। দুই পাশের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ) নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি বর্তমানে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। দূর থেকে এটি নদীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অসমাপ্ত কংক্রিট কাঠামো বলেই মনে হয়।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি চালু হলে কৃষ্ণনগর, ভবানীপুর, বনগজ, বরিশলসহ অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যা দূর হতো। কিন্তু বছরের পর বছর প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি প্রয়োজনে নদী পারাপারের সুযোগও থাকে না।
আখাউড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অর্থায়নে প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের অক্টোবরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০৮ মিটার দীর্ঘ ও ৬ মিটার প্রশস্ত সেতুটির কাজ ২০২৩ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ ইতোমধ্যে চার দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েছে। বর্তমানে তারা পঞ্চম দফায় সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. খায়রুল হাসান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছাড়পত্র পেতে বিলম্ব এবং ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।
তবে এলজিইডির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান ভিন্ন কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকবল ও নির্মাণসামগ্রীর সংকটের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ পুনরায় শুরু করে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে চুক্তি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তেমনি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।