রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

১৫ বছর অন্ধকার কুটিরে বন্দি সালেহা, ফিরলেন আলোয়

১৫ বছর অন্ধকার কুটিরে বন্দি সালেহা, ফিরলেন আলোয়
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
চারপাশে দুর্গন্ধযুক্ত নর্দমার পানি। ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বিষধর সাপ, পোকামাকড় ও নানা জীবজন্তুর বিচরণ। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে জরাজীর্ণ একটি কুটির। সেখানে মাথা তুলে দাঁড়ানোরও জায়গা নেই। নেই সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ।

এই অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে ও দুর্গন্ধময় কুটিরেই কেটে গেছে সালেহা বেগমের জীবনের ১৫ বছর। দীর্ঘ দেড় দশক তিনি অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিলেন। ঘরের বাইরে বের হতেন না। কারও সঙ্গে কথাও বলতেন না।

সম্প্রতি ‘১৫ বছর ধরে কুটিরের অন্ধকারে লুকিয়ে রহস্যময় নারী’ শিরোনামে সালেহা বেগমকে নিয়ে একাধিক জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। শুরু হয় তাঁকে উদ্ধারের উদ্যোগ।

অবশেষে শনিবার (২৯ আগস্ট) সেই বন্দিদশার অবসান হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের নাচনাপাড়া এলাকার জরাজীর্ণ কুটির থেকে সালেহাকে বের করে আনেন তাঁর ছেলে জিয়াউর রহমান। পরে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বামী আবুল কালামের মৃত্যুর পর সালেহার জীবনে নেমে আসে চরম নিঃসঙ্গতা। এরপর থেকে ওই কুটিরেই বসবাস করছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেন। ঘরের বাইরে বের হওয়া তো দূরের কথা, কারও সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতেন না।

সালেহার মেয়ে লাকী বেগম মাঝেমধ্যে তাঁকে খাবার দিয়ে যেতেন। ছেলে জিয়াউর রহমানও মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। ফলে মায়ের নিয়মিত দেখাশোনা করার সামর্থ্য তাঁর ছিল না। এভাবেই দিনের পর দিন অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কেটে যায় সালেহার জীবন।

সালেহাকে কুটির থেকে বের করে হাসপাতালে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় স্বস্তি দেখা দেয়। দীর্ঘদিন পর তাঁকে ঘরের বাইরে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকে।

তবে শুধু কুটির থেকে বের করে আনাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সালেহার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় ও মানবিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসায় সহায়তা এবং একটি নিরাপদ নতুন ঘরের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান বলেন, সালেহা বেগমের পাশে উপজেলা প্রশাসন থাকবে। প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
টেকসই উন্নয়নে গ্রামের উন্নয়ন জরুরি, সরাইলে জেলা পরিষদ প্রশাসক

টেকসই উন্নয়নে গ্রামের উন্নয়ন জরুরি, সরাইলে জেলা পরিষদ প্রশাসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।