রবিবার|বাংলা: ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|ইংরেজি: ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ|আরবি: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

শেখ হাসিনাকে ঘিরে অস্বস্তিতে দিল্লি

নয়াদিল্লিতে লাইভ সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন
শেখ হাসিনাকে ঘিরে অস্বস্তিতে দিল্লি
ছবি সংগৃহীত
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অস্বস্তি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার অনলাইনে সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হলেও অনুষ্ঠানটি কীভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যেও।

বিবিসি নিউজ বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার পর থেকে দিল্লি বরাবরই দাবি করে আসছে, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তাঁকে সাময়িকভাবে ভারতে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এক সর্বদলীয় বৈঠকে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছিলেন।

তবে সাময়িক আশ্রয়ের সেই সময়কাল ইতোমধ্যে দীর্ঘ হয়েছে। এ সময়ে ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগের বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

তবে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের (এফসিসি) আয়োজনে শেখ হাসিনার অনলাইনে সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদিন রাতেই কঠোর প্রতিবাদ জানায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানটির সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আগেই ভারতকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অনলাইন সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন এক সন্ধিক্ষণে নিয়ে গেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কূটনৈতিকভাবে সতর্ক করার পরও নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—ভারত সরকারের কোনো পর্যায়ের সম্মতি বা সহযোগিতা ছাড়া এমন আয়োজন সম্ভব ছিল কি না।

তবে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের জন্য ভারত সরকার দায়ী নয়।

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। বাংলাদেশ বারবার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ভারত এখনো সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এর প্রভাব দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার অনুরোধের পরও দিল্লির নীরবতা দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, বাণিজ্য ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়েও সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব পড়ছে।

দিল্লির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কারণ, তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার সময় যে পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাশিত পথে এগোয়নি। বিশেষ করে ভারতের মাটিতে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর নিয়মিত বক্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

ভারতের জন্য শেখ হাসিনার উপস্থিতি এখন কূটনৈতিকভাবে একটি ‘বোঝা’ হয়ে উঠছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও মানবিক বিবেচনা থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় বিষয়টি দিল্লির জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে ভারত। কিন্তু একই সময়ে শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার সঙ্গে আস্থার সংকট কাটছে না।

দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের জন্য শেখ হাসিনাকে জোর করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প নয়। তবে তিনি যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফেরেন, তাহলে দুই দেশের বর্তমান উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। এমনকি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ভারত ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনা করছে—এমন জল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা এখন কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানসংক্রান্ত বিষয় নয়; বরং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথেও এর প্রভাব পড়ছে। নয়াদিল্লিতে সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন সেই অস্বস্তিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬