দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. সাইদুর রহমান খান। দায়িত্ব নিয়েই তিনি দুদককে জনবান্ধব, কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুর্নীতিকে ‘নির্বাসনে’ পাঠানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
রোববার (২ আগস্ট) দুদকের নতুন সচিবের যোগদান উপলক্ষে দুদক বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র্যাক) আয়োজিত পরিচিতি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইদুর রহমান খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুদকের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে কাজ করার যে অভিযোগ রয়েছে, সেই ভাবমূর্তি থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বের করে আনতে হবে। এ লক্ষ্যেই একটি ‘রূপান্তরের মিশন’ নিয়ে কাজ শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, “দুদক অতীতের বিতর্ক পেছনে ফেলে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে।”
বর্তমানে কমিশন না থাকায় সংস্থার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে আছে উল্লেখ করে নতুন সচিব বলেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। এরপর একটি বিশেষ কর্মসূচি (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) গ্রহণ করে জমে থাকা কাজ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নতুন কমিশন কবে দায়িত্ব নেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটির কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুতই নতুন কমিশন দায়িত্ব নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
নিজের অগ্রাধিকারের বিষয়ে সাইদুর রহমান খান বলেন, দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা এবং সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই। অতীতে দুদক নিয়ে যেসব সুপারিশ এসেছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংসদে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগগুলো অগ্রাধিকার পাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ, বাস্তবতা, সরকারের কর্মপরিকল্পনা এবং নতুন কমিশনের নীতিগত নির্দেশনার ভিত্তিতে দুদকের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গে দুদক
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে দুদকের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই।
তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। আন্তঃদেশীয় অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। দুদক পারস্পরিক আইনি সহায়তার (এমএলএ) অনুরোধ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়, সেখান থেকে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করার প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নতুন সচিবের পরিচিতি
অনুষ্ঠানের শুরুতে র্যাকের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক নতুন সচিবকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
দুদকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মো. সাইদুর রহমান খান রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা। গত ৩০ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে দুদকের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাইদুর রহমান খান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং শিক্ষায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের গ্রিনউইচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।