মঞ্চে, মাজারে, ওরস বা আসরে কেউ আর তার কণ্ঠে গান শুনতে পারবে না। বাউল গানের মঞ্চে থেমে গেল তার যাত্রা। মাত্র নিজের পরিচিতি তৈরি করতে শুরু করেছিলেন ১৭ বছর বয়সী পেহেলী ভৈরবী। মাজার ও ওরসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করতেন তিনি।
কিন্তু একটি অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথেই থেমে গেল তার জীবনের সব স্বপ্ন। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এই তরুণ বাউলশিল্পী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা এলাকার বৈরাগী বাজারে হযরত ছাবাল শাহ (রহ.)-এর মাজারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন পেহেলী ভৈরবী।
অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘আসসালামু ওয়ালাইকুম…! আজকে ০৬/০৮/২০২৬ ইং প্রোগ্রামে যাবো বিশ্বনাথ নদার রামপাশা, বৈরাগী বাজার, হযরত ছাবাল শাহ মাজারে। আশপাশে যারা আছেন, আজকে দাওয়াত রইল। ধন্যবাদ।’
এটাই ছিল তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা শেষ পোস্ট।
আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে অনুষ্ঠান শেষে বাসে করে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন পেহেলী ভৈরবী।
পথে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চন্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে পেহেলী ভৈরবী ওই দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের একজন।
তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর শোকের ছায়া নেমে আসে বাউল ও লোকসংগীত অঙ্গনে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে জাতীয় গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয় তার মৃত্যুর সংবাদ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহশিল্পী ও ভক্তরা স্মরণ করছেন তার সংক্ষিপ্ত অথচ সম্ভাবনাময় সংগীতজীবনকে।
শিল্পী মুন শোক প্রকাশ করে লেখেন, ‘জীবনের অনিশ্চয়তা যেন আবারও নির্মমভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল এই ঘটনা। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, গান শোনাতে দূর-দূরান্তে ছুটে বেড়ানো একজন শিল্পীর শেষ পথচলা যে এমন হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।’
অকাল এই মৃত্যুতে শোকাহত তার পরিবার, সহশিল্পী ও অসংখ্য শ্রোতা। সংগীতজগতে সম্ভাবনাময় এক কণ্ঠের এমন করুণ বিদায় গভীর বেদনায় স্মরণ করছেন সবাই।