ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৬০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। তবে তাঁদের এক সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে র্যাব-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আভিযানিক দল উপজেলার কুট্টা মোড়সংলগ্ন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ঢাকার দিকে নেওয়া হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে কুট্টা মোড় এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়।
চেকপোস্টে একটি রুপালি রঙের প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক তা অমান্য করে দ্রুত নাসিরনগর সড়কের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গাড়িটি থামাতে সক্ষম হন।
এ সময় গাড়ি থেকে নেমে তিন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে দুজনকে আটক করা হয়। অপর একজন কৌশলে পালিয়ে যান।
পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাইভেটকারের পেছনের অংশে তল্লাশি চালিয়ে নীল পলিথিনে স্কচ টেপে মোড়ানো ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নামাটোলা এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে আরিফ (৩৫) এবং মনোহরপুর এলাকার আকালুর ছেলে বারিকুল ইসলাম (২৭)।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানিয়েছেন, পলাতক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন।
এ ঘটনায় পলাতক আসামিসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের এবং জব্দ করা আলামত সরাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।