ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরবেষ্টিত নাসিরনগর উপজেলায় মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আধুনিক এ প্রযুক্তিতে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ফলন ভালো এবং বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগও চাষিদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দিয়ে এ আবাদ সম্প্রসারণে কাজ করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নাসিরনগরে প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২২ থেকে ২৫ কোটি টাকা।
মালচিং পদ্ধতিতে জমির ওপর বিশেষ প্লাস্টিকের আবরণ ব্যবহার করায় মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ঝড়-বৃষ্টি ও আগাছার আক্রমণ থেকে ফসল সুরক্ষিত থাকে। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সেচ ও পরিচর্যার খরচও তুলনামূলক কমে আসে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে টমেটো চাষে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৭০ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় গড়ে প্রায় ৪ মেট্রিক টন ফলন মিলছে। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় ১ লাখ ২৫ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ৮০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বারি টমেটো-৮সহ উন্নতমানের হাইব্রিড জাতের টমেটোর আবাদ হয়েছে। কৃষকদের দাবি, লাভজনক হওয়ায় আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করবেন তারা।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, “মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২২ থেকে ২৫ কোটি টাকার টমেটো উৎপাদনের আশা করছি।”
তিনি আরও বলেন, হাওরবেষ্টিত নাসিরনগরে খরিপ-১ ও খরিপ-২—উভয় মৌসুমেই গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ হয়ে থাকে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের আগ্রহের কারণে প্রতিবছরই এ অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি বিভাগের ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নাসিরনগর গ্রীষ্মকালীন টমেটো উৎপাদনের অন্যতম সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।