সোমবারবাংলা: ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

কুষ্টিয়ায় শিশুর মৃত্যুর পর হাসপাতালে হামলা, আহত ৪

কুষ্টিয়ায় শিশুর মৃত্যুর পর হাসপাতালে হামলা, আহত ৪
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ চারজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসকের কক্ষ ও জরুরি বিভাগে ভাঙচুর করা হয়।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পীযুষ কুমার সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের সাব্বির হোসেনের তিন বছরের ছেলে রাফি সকালে পানিতে পড়ে যায়। পরে স্বজনেরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তাঁরা চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা হাসপাতালের ১১ নম্বর মেডিকেল অফিসারের কক্ষে ভাঙচুর চালান।

এ ঘটনায় ডা. মোছা. রিয়াজুল জান্নাত, উপসহকারী মেডিকেল অফিসার আব্দুস সামাদসহ চারজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন জরুরি বিভাগের অ্যাটেনডেন্ট ও একজন আনসার সদস্য রয়েছেন।

মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর স্বজনেরা হাসপাতালের দরজা ও অন্যান্য স্থাপনা ভাঙচুর করেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসককে হেনস্তা করেন।

ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে যায়। তবে ততক্ষণে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যান। পরে হাসপাতালের ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পীযুষ কুমার সাহা বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এরপর তাঁরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। সঙ্গে থাকা লোকজন তখন হাসপাতালের কর্মীদের ওপর হামলা করেন।

তিনি বলেন, হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। জরুরি বিভাগেও ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে আসেন। তবে এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়নি।

এদিকে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার ছেলে হামলার ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফুজ্জামান শাহীন বলেন, ঘটনার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে শাস্তি পেতে হবে। ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।