রবিবার|বাংলা: ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|ইংরেজি: ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ|আরবি: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার: মূলহোতা গ্রেপ্তার

কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার: মূলহোতা গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে পাচার, তাঁর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, পাসপোর্ট জোরপূর্বক নিয়ে নির্যাতন এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের এক মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানা এলাকা থেকে মো. রুবেল (২৯) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বাড়ি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার খাগজানা গ্রামে।

সিআইডি জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী আর্থিক সংকটের কারণে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। ওই এনজিওতে কর্মরত রুবেলের সঙ্গে কিস্তি পরিশোধের সূত্রে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে রুবেল কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত প্রথমে ভুক্তভোগীকে এক লাখ টাকা ঋণ নিতে সহায়তা করেন। পরে সেই অর্থ নিজের কাছে নিয়ে নেন এবং তাঁর পাসপোর্টও সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে বিদেশে পাঠানোর নামে বিভিন্ন সময়ে আরও অর্থ নেন। ভুক্তভোগী ধারদেনা করে অভিযুক্তের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে দুই লাখ টাকা জমা দেন। সব মিলিয়ে তাঁর কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়।

২০২৫ সালের আগস্টে ভিসা ও বিমান টিকিট দিয়ে ভুক্তভোগীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্যরা তাঁর পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা অর্থ জোরপূর্বক নিয়ে নেয়। পরে তাঁকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে অনিচ্ছাকৃত কাজ করানো হয় এবং তাঁর উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে তাঁকে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। দেশে ফিরতে চাইলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও মানবিক সংস্থার সহায়তায় গত ১ জুলাই ২০২৬ দেশে ফিরতে সক্ষম হন ওই নারী। দেশে ফিরে তিনি সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সিআইডি জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুলাই প্রধান অভিযুক্ত রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের আদেশে তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। জবানবন্দি ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানবপাচার চক্রের অন্য সদস্য, আর্থিক লেনদেন, বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য ভুক্তভোগী এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

সিআইডি জানিয়েছে, এই আন্তঃদেশীয় মানবপাচার চক্রের মাধ্যমে আরও কোনো বাংলাদেশি একই ধরনের প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দেশি-বিদেশি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, মানবপাচার, জিম্মি বা নির্যাতনের কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সিআইডিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬