অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন দিনেও কাটেনি গ্যাসের তীব্র সংকট। এতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে জেলার প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ও গ্যাসনির্ভর ১৭টি শিল্পকারখানা। বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেককে।
এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহে তীব্র সংকট দেখা দেয়। তিন দিনেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে দুর্ভোগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকেরা। অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাস না থাকায় বিকল্প হিসেবে মাটির চুলা কিংবা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও স্বল্প পরিসরে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও চাপ এতটাই কম যে রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে বাসাবাড়িতে রান্নার সংকটের কারণে হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও বেড়েছে চাপ। গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা ও ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্যাস গ্রাহক রয়েছেন। মহেশখালীর এফএসআরইউতে গ্যাসিফিকেশনের জন্য আমদানি করা এলএনজি বঙ্গোপসাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লোডিং করা যাচ্ছে না। ফলে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমে গিয়ে এ সংকট তৈরি হয়েছে।
কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার জানানো হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কমে গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এর প্রভাবে বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকার কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জেলার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের এই ভোগান্তি আরও কত দিন পোহাতে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।