কাঁদতে কাঁদতে মেসি বললেন, ‘বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়’
খেলা ডেস্ক
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
কাঁদতে কাঁদতে মেসি বললেন, ‘বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়’.
২১ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে কিংবদন্তি এই ফুটবলারের শেষ ম্যাচটি হয়ে উঠল আবেগঘন এক বিদায় অনুষ্ঠান। সতীর্থ, কোচ ও কাছ থেকে মেসিকে দেখা মানুষদের অনেকেই এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।এস্তাদিও মনুমেন্তালে ছিল পুরো আয়োজন। মেসির বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জয় পেয়েছে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে দলটি। তিন গোলেই অবদান ছিল মেসির।নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে দুটি গোল করান মেসি। পরে পেনাল্টি থেকে নিজেই করেন তৃতীয় গোলটি।ম্যাচ শেষে মাইক হাতে নেন মেসি। শুরুতে তাঁর মুখে ছিল চওড়া হাসি। একপর্যায়ে চোখের কোণ ভিজে ওঠে। কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই তিনি স্মরণ করেন মাসখানেক আগে হারানো বাবা হোর্হে মেসিকে।মেসি বলেন, ‘কী বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মাথায় অনেক কিছুই ঘুরছে। আজকের এই রাতে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা (হোর্হে মেসি)।’আর্জেন্টিনার জার্সি পরার সুযোগকে নিজের জন্য বড় গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে পারি। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শার্টটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য ছিল এক বিরাট গর্বের বিষয়।’জাতীয় দলের হয়ে লড়াইয়ের কথাও স্মরণ করেন মেসি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা কখনও লড়াই থামাইনি। নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।’২০২৬ বিশ্বকাপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল দল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিও তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।মেসি বলেন, ‘আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই করেছি, সারাজীবন লড়াই করেছি। কোনো সন্দেহ রাখবেন না যে, এই জার্সির জন্য আমরা সর্বদা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।’এরপর বিদায় নেওয়ার কষ্টের কথা বলেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে ফিরতে না পারার ভাবনাটি তাঁর জন্য কঠিন।মেসি বলেন, ‘এখানে আর ফিরে আসতে না পারার ভাবনাটা ভীষণ কষ্টের। সত্যি বলছি, সারা জীবন আমি এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু একজন ফুটবলারের জীবনে হতে পারে না।’তিনি আরও বলেন, ‘আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।’সতীর্থদেরও ধন্যবাদ জানান মেসি। তাঁদের ‘বীর যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মেসির ভাষায়, ‘তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ—বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা।’সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো সময় মিস করবেন বলেও জানান তিনি। মেসি বলেন, ‘আমি সব সময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিলাম। আমি এই পরিবেশটাকে খুব মিস করব।’আর্জেন্টিনার হয়ে বিভিন্ন দেশে খেলতে গিয়ে সমর্থকদের ভালোবাসার কথাও স্মরণ করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘আমি যেখানেই গিয়েছি, স্টেডিয়াম সব সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মনে হতো আমরা যেখানেই খেলছি, সেটাই যেন আমাদের নিজেদের ঘর।’এরপর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মেসি। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি কঠিন সময় সামনে আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।মেসি বলেন, ‘আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে অন্য পাশে থাকব। এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে, তাদের সবার জন্য শুভকামনা জানাব ও সমর্থন দিয়ে যাব।’তিনি আরও বলেন, ‘কঠিন সময় সামনে আসছে। আর সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ কিছু মানুষ আছে, যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হবে।’আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক শেষটাও করেন আবেগঘন বার্তায়। মেসি বলেন, ‘আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না।’ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি। আর আপনাদের সবাইকে আমি খুব মিস করব। আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।’
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
২১ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে কিংবদন্তি এই ফুটবলারের শেষ ম্যাচটি হয়ে উঠল আবেগঘন এক বিদায় অনুষ্ঠান। সতীর্থ, কোচ ও কাছ থেকে মেসিকে দেখা মানুষদের অনেকেই এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এস্তাদিও মনুমেন্তালে ছিল পুরো আয়োজন। মেসির বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জয় পেয়েছে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে দলটি। তিন গোলেই অবদান ছিল মেসির।
নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে দুটি গোল করান মেসি। পরে পেনাল্টি থেকে নিজেই করেন তৃতীয় গোলটি।
ম্যাচ শেষে মাইক হাতে নেন মেসি। শুরুতে তাঁর মুখে ছিল চওড়া হাসি। একপর্যায়ে চোখের কোণ ভিজে ওঠে। কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই তিনি স্মরণ করেন মাসখানেক আগে হারানো বাবা হোর্হে মেসিকে।
মেসি বলেন, ‘কী বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মাথায় অনেক কিছুই ঘুরছে। আজকের এই রাতে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা (হোর্হে মেসি)।’
আর্জেন্টিনার জার্সি পরার সুযোগকে নিজের জন্য বড় গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে পারি। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শার্টটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য ছিল এক বিরাট গর্বের বিষয়।’
জাতীয় দলের হয়ে লড়াইয়ের কথাও স্মরণ করেন মেসি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা কখনও লড়াই থামাইনি। নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।’
২০২৬ বিশ্বকাপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল দল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিও তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
মেসি বলেন, ‘আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই করেছি, সারাজীবন লড়াই করেছি। কোনো সন্দেহ রাখবেন না যে, এই জার্সির জন্য আমরা সর্বদা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।’
এরপর বিদায় নেওয়ার কষ্টের কথা বলেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে ফিরতে না পারার ভাবনাটি তাঁর জন্য কঠিন।
মেসি বলেন, ‘এখানে আর ফিরে আসতে না পারার ভাবনাটা ভীষণ কষ্টের। সত্যি বলছি, সারা জীবন আমি এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু একজন ফুটবলারের জীবনে হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।’
সতীর্থদেরও ধন্যবাদ জানান মেসি। তাঁদের ‘বীর যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মেসির ভাষায়, ‘তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ—বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা।’
সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো সময় মিস করবেন বলেও জানান তিনি। মেসি বলেন, ‘আমি সব সময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিলাম। আমি এই পরিবেশটাকে খুব মিস করব।’
আর্জেন্টিনার হয়ে বিভিন্ন দেশে খেলতে গিয়ে সমর্থকদের ভালোবাসার কথাও স্মরণ করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘আমি যেখানেই গিয়েছি, স্টেডিয়াম সব সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মনে হতো আমরা যেখানেই খেলছি, সেটাই যেন আমাদের নিজেদের ঘর।’
এরপর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মেসি। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি কঠিন সময় সামনে আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মেসি বলেন, ‘আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে অন্য পাশে থাকব। এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে, তাদের সবার জন্য শুভকামনা জানাব ও সমর্থন দিয়ে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘কঠিন সময় সামনে আসছে। আর সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ কিছু মানুষ আছে, যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হবে।’
আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক শেষটাও করেন আবেগঘন বার্তায়। মেসি বলেন, ‘আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না।’
ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি। আর আপনাদের সবাইকে আমি খুব মিস করব। আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।’