ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ২৭ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি, প্রয়োজন হলে ৮২ বছর বয়সেও আবার লড়াই করব। তবুও দেশের মানুষের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে চিরস্থায়ী করে দিয়ে যাবো।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ধরনের অনুশোচনা বা অপরাধবোধ নেই। নির্লজ্জের মতো তারা আবারও রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ফিরে আসতে চাইছে। তবে তারা যেন কোনোভাবেই আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত অধ্যায়ের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, তৎকালীন ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে দেশজুড়ে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করা হবে। জুলাইয়ের এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান নতুন করে রাষ্ট্র গঠনের এক অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতেই শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং আন্দোলনের ৩৬ দিনের স্মৃতিঘেরা একটি তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শন করা হয়। পরে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা।