বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চলতি আগস্টের শেষ সপ্তাহে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব শ্রমিকের জন্য দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বিস্তারিত জানিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে সব শ্রমিকের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংবাদ।”
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিলতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কর্মপ্রত্যাশী সেখানে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারের আশা, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে নিয়মিতভাবে কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, অতীতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির আধিপত্য, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এসব কারণে অনেক কর্মী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বিদেশে যাওয়ার আগেই হয়রানির শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকার এবার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে চায়, যাতে কোনো সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ না পায়। কর্মী নির্বাচন, নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রক্রিয়া এবং বিদেশে পাঠানোর প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নিরাপদ অভিবাসনের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।