সোমবারবাংলা: ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

লজিস্টিক ব্যয় কমানো ছাড়া খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

লজিস্টিক ব্যয় কমানো ছাড়া খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লজিস্টিক ব্যয় কমানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, লজিস্টিক ব্যয়, উৎপাদন উপকরণের খরচ এবং বাজারব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লজিস্টিক ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) আয়োজনে ‘বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাজারব্যবস্থা, মুনাফার মার্জিন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও অনেক দেশ তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বে গড়ে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ লজিস্টিক ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হলেও বাংলাদেশে এ হার প্রায় ১৬ শতাংশ। এ ব্যয় কমানো গেলে খাদ্যপণ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাজারে তথ্যের অসমতার কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। টানা কয়েক বছর আলুর ন্যায্যমূল্য না পেলেও একই পরিমাণ উৎপাদন অব্যাহত রাখার বিষয়টি প্রমাণ করে, কৃষকের কাছে বাজারসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিকল্প উৎপাদন পরিকল্পনা পৌঁছাচ্ছে না।

তিনি জানান, কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় ট্রেসেবিলিটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে মূল্যশৃঙ্খলের কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বা মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে, তা সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ব্যয় কমানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের প্রায় এক কোটি ৭৮ লাখ কৃষক পরিবার সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপন করে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চ উৎপাদনশীলতায় বিনিয়োগের সক্ষমতা তাদের সীমিত। এ কারণে কৃষিতে আরও বেশি রাষ্ট্রীয় সহায়তা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার কৃষি খাতে ভর্তুকি, সার, বীজ ও সেচ সুবিধা দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে। তবে এখন সময় এসেছে কৃষিকে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তরের। দেশের মাটি, জলবায়ু ও কৃষি বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষি এমন একটি খাত, যা প্রকৃতি ও নানা বাহ্যিক ঝুঁকির ওপর নির্ভরশীল। তাই জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে—লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস, উৎপাদন উপকরণের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। উৎপাদনশীলতা বাড়লে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি ভোক্তার জন্যও সহনীয় দামে খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফখরুদ্দিন আল কবির। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার মণ্ডল, সাবেক অর্থসচিব সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুল মাজিদ এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার লিমা।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
টেকসই আবাসন শুধু ঘর নয়, নাগরিক সুবিধাও: প্রধানমন্ত্রী

টেকসই আবাসন শুধু ঘর নয়, নাগরিক সুবিধাও: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ইথিওপিয়া-ইরিত্রিয়া উত্তেজনা: নতুন যুদ্ধ কি আসন্ন, নাকি কূটনীতিতে ঠেকানো সম্ভব

ইথিওপিয়া-ইরিত্রিয়া উত্তেজনা: নতুন যুদ্ধ কি আসন্ন, নাকি কূটনীতিতে ঠেকানো সম্ভব

সঞ্জয় মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।