আখাউড়া স্থলবন্দরে আমদানি নিষেধাজ্ঞার পর বদলে গেছে রপ্তানি মুখর প্রেক্ষাপট
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
আখাউড়া স্থলবন্দরে আমদানি নিষেধাজ্ঞার পর বদলে গেছে রপ্তানি মুখর প্রেক্ষাপট.
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে একসময় নানা ধরনের পণ্য রপ্তানিতে ব্যস্ততা ছিল। ভারতের আমদানি নিষেধাজ্ঞার পর বদলে গেছে সেই চিত্র।২০২৫ সালের ১৭ মে থেকে প্লাস্টিক পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফলের স্বাদযুক্ত জুস, পিভিসি সামগ্রী ও তুলাসহ বাংলাদেশের কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। এরপর থেকেই আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।নিষেধাজ্ঞার ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও তা কাটেনি। ফলে দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী এই স্থলবন্দরের বাণিজ্য এখন অনেকটাই মাছ রপ্তানিনির্ভর।বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে বছরে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই মাছ। মাছ রপ্তানি এখন বন্দরের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস। অন্যদিকে ভারত থেকে পণ্য আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তবে দু-একটি পণ্য আমদানির চেষ্টা করছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।এক বছর আগের তুলনায় গত অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানির পরিমাণও কমেছে। আগের অর্থবছরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মূল্যের পণ্য আমদানি হয়েছে। তবে একই সময়ে রপ্তানি আয় কিছুটা বেড়েছে।ব্যবসায়ীরা বলছেন, আখাউড়া মূলত রপ্তানিমুখী বন্দর। ভারতে বাংলাদেশি কিছু পণ্যের চাহিদা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে সেগুলো পাঠানো যাচ্ছে না। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৫২৪ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৮ টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯ টাকা।অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ টাকা।রপ্তানি পণ্যের তালিকায় ছিল হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, আটা-ময়দা ও ভোজ্যতেলসহ কয়েকটি পণ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে মাছ।অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত কোনো পণ্য আমদানি হয়নি। ওই অর্থবছরে আমদানি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টাকা।এর আগের অর্থবছর, ২০২৪-২৫ সালে, এই বন্দর দিয়ে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৯ টাকার পণ্য আমদানি হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল জিরা, ডাল ও কাজুবাদাম। আমদানি পণ্য থেকে ওই অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় হয় ৭ কোটি ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৯ টাকা।ভারত গত বছর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ছয় ধরনের পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। প্রজ্ঞাপনে তৈরি পোশাক; ফল, ফলের স্বাদযুক্ত পানীয় ও কোমল পানীয়; প্রক্রিয়াজাত খাদ্য; প্লাস্টিক পণ্য; সুতা ও সুতার উপজাত এবং আসবাব রপ্তানি নিষিদ্ধের কথা বলা হয়।নিষিদ্ধ পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক ও কাঠের আসবাব ছাড়া বাকি সব ধরনের পণ্য আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি করা হতো। এসব পণ্যের প্রধান গন্তব্য ছিল ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা। সেখানে বাংলাদেশি এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।ব্যবসায়ীরা জানান, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রভাব পড়ে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে। এরপর ২০২৫ সালের ১৭ মে ভারত কিছু পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়।তবে বিপুল পরিমাণ মাছ ভারতে রপ্তানি হওয়ায় রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। ব্যবসায়ীদের আশা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে বন্দরের কার্যক্রম আরও বাড়বে।আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, একসময় এই বন্দর দিয়ে বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি হতো।বন্দরটির ব্যবসায়ী মো. আক্তার হোসেন বলেন, আমদানি বাড়ার আশা করছেন তাঁরা। চাহিদা অনুযায়ী জিরাসহ কিছু পণ্য আনার প্রক্রিয়া চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আমদানি কার্যক্রমে গতি আসবে।তিনি বলেন, ভারত কিছু পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে রপ্তানিও বাড়বে। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা।আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আখাউড়া মূলত একটি রপ্তানিমুখী বন্দর। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপড়েনের কারণে বন্দরের বাণিজ্য অনেকটাই প্রভাবিত হয়েছে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে একসময় নানা ধরনের পণ্য রপ্তানিতে ব্যস্ততা ছিল। ভারতের আমদানি নিষেধাজ্ঞার পর বদলে গেছে সেই চিত্র।
২০২৫ সালের ১৭ মে থেকে প্লাস্টিক পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফলের স্বাদযুক্ত জুস, পিভিসি সামগ্রী ও তুলাসহ বাংলাদেশের কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। এরপর থেকেই আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।
নিষেধাজ্ঞার ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও তা কাটেনি। ফলে দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী এই স্থলবন্দরের বাণিজ্য এখন অনেকটাই মাছ রপ্তানিনির্ভর।
বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে বছরে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই মাছ। মাছ রপ্তানি এখন বন্দরের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস। অন্যদিকে ভারত থেকে পণ্য আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তবে দু-একটি পণ্য আমদানির চেষ্টা করছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।
এক বছর আগের তুলনায় গত অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানির পরিমাণও কমেছে। আগের অর্থবছরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মূল্যের পণ্য আমদানি হয়েছে। তবে একই সময়ে রপ্তানি আয় কিছুটা বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আখাউড়া মূলত রপ্তানিমুখী বন্দর। ভারতে বাংলাদেশি কিছু পণ্যের চাহিদা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে সেগুলো পাঠানো যাচ্ছে না। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৫২৪ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৮ টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯ টাকা।
অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ টাকা।
রপ্তানি পণ্যের তালিকায় ছিল হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, আটা-ময়দা ও ভোজ্যতেলসহ কয়েকটি পণ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে মাছ।
অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত কোনো পণ্য আমদানি হয়নি। ওই অর্থবছরে আমদানি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টাকা।
এর আগের অর্থবছর, ২০২৪-২৫ সালে, এই বন্দর দিয়ে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৯ টাকার পণ্য আমদানি হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল জিরা, ডাল ও কাজুবাদাম। আমদানি পণ্য থেকে ওই অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় হয় ৭ কোটি ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৯ টাকা।
ভারত গত বছর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ছয় ধরনের পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। প্রজ্ঞাপনে তৈরি পোশাক; ফল, ফলের স্বাদযুক্ত পানীয় ও কোমল পানীয়; প্রক্রিয়াজাত খাদ্য; প্লাস্টিক পণ্য; সুতা ও সুতার উপজাত এবং আসবাব রপ্তানি নিষিদ্ধের কথা বলা হয়।
নিষিদ্ধ পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক ও কাঠের আসবাব ছাড়া বাকি সব ধরনের পণ্য আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি করা হতো। এসব পণ্যের প্রধান গন্তব্য ছিল ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা। সেখানে বাংলাদেশি এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রভাব পড়ে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে। এরপর ২০২৫ সালের ১৭ মে ভারত কিছু পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়।
তবে বিপুল পরিমাণ মাছ ভারতে রপ্তানি হওয়ায় রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। ব্যবসায়ীদের আশা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে বন্দরের কার্যক্রম আরও বাড়বে।
আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, একসময় এই বন্দর দিয়ে বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি হতো।
বন্দরটির ব্যবসায়ী মো. আক্তার হোসেন বলেন, আমদানি বাড়ার আশা করছেন তাঁরা। চাহিদা অনুযায়ী জিরাসহ কিছু পণ্য আনার প্রক্রিয়া চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আমদানি কার্যক্রমে গতি আসবে।
তিনি বলেন, ভারত কিছু পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে রপ্তানিও বাড়বে। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা।
আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আখাউড়া মূলত একটি রপ্তানিমুখী বন্দর। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপড়েনের কারণে বন্দরের বাণিজ্য অনেকটাই প্রভাবিত হয়েছে।