সমাজকল্যাণমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই দেশে স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে জনগণের অধিকার নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে জেটেব আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, তারা নিষ্ক্রিয় নন; তাদের সহযোগীরাও বিভিন্নভাবে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে। তবে জনগণ তাদের সব ধরনের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর দল। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার রক্ষায় দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। সেখানে অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের কোনো স্থান থাকবে না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই হবে তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পাশাপাশি গুম ও রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এসব পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন বলেন, অনেক পরিবার আজও জানে না তাদের স্বজন জীবিত নাকি মৃত। এই অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণা একটি পরিবারকে দীর্ঘদিন বহন করতে হয়।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর দেশের মানুষ অবাধ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। জনগণ যাদের ওপর আস্থা রেখেছে, তাদের সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, যখনই গণতন্ত্র সংকটের মুখে পড়েছে, তখনই দলটি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন জাতীয় সংকটে বিএনপি ও এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। তবে জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না—সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই শিক্ষাই দিয়েছে।
জাহিদ হোসেন বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই রাজনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি। প্রশাসনিক শক্তির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।
তিনি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎকে আরও গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
জেটেবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতাকর্মী ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।