র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের উদ্যোগ, সংসদে বিল উত্থাপন
নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের উদ্যোগ, সংসদে বিল উত্থাপন.
দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা হয়। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন।বিল উত্থাপনের সময় নতুন বাহিনীর রূপরেখা, প্রয়োজনীয়তা ও সময়সীমা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। এ সময় তাঁরা পাল্টাপাল্টি যুক্তি দেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী র্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে। তবে সাইবার অপরাধ, জুয়া ও মাদক দমনে পুলিশের অধীনে একটি অত্যাধুনিক ও সুসজ্জিত এলিট ফোর্স প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই এসআরবি গঠনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।অতীতের পুলিশের সমালোচনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রধান ছিলেন ‘কুখ্যাত’ বেনজীর। তাই বলে পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করা যায় না। তাঁর ভাষায়, ‘মাথা ব্যথা হলে মাথা কর্তন করা যায় না।’ প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী রাজনৈতিক বা মাফিয়া শক্তির দোষ থাকতে পারে। এর জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না।নতুন বাহিনীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, এসআরবির কোনো সদস্য শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়ালে তাঁর বিচারের জন্য একটি কমিটি থাকবে। ওই কমিটিতে বেসরকারি সদস্য, মানবাধিকারকর্মী ও বিচারিক কর্মকর্তা থাকবেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এর ফলে অতীতের র্যাবের মতো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ নতুন বাহিনীর থাকবে না।নতুন বাহিনী নিয়ে সতর্ক বিরোধীদলীয় নেতার্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবকে স্বাগত জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে নতুন বাহিনী গঠনের আগে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি জানান তিনি।অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘একবার চুন খেয়ে গাল ঘা হয়েছে, এখন সাদা দই দেখলেও ভয় লাগে।’ র্যাবের কর্মকাণ্ডে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলাকে এর ‘জ্বলন্ত প্রমাণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর ভাষায়, ওই জুলুমের কথা মনে হলে এখনো অনেকে ঘুমাতে পারেন না।নতুন বাহিনী যেন শুধু নাম পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, জনগণের কাছে এমন ধারণা যেন না যায় যে শুধু ‘এপ্রনটা’ পরিবর্তন করা হয়েছে। বরং পুরো ধারণাটিই যে পরিবর্তন হয়েছে, তা জাতির সামনে প্রমাণ করতে হবে।বিলটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য আজ উত্থাপন স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি এটি আগামী সপ্তাহে উত্থাপনের প্রস্তাব দেন।সংসদীয় কমিটিতে যাবে বিলবিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর বিলটি নিয়ে সংসদে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘বিশাল হৃদয়ের’ প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিলটি নিয়ে আরও পড়াশোনার জন্য সময় চান।এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতার যুক্তির প্রতি সম্মান জানান। তিনি বলেন, বিলটি আজ উত্থাপিত হয়ে সংসদের সম্পত্তি হিসেবে থাকুক। এরপর এটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কমিটিকে অন্তত তিন থেকে পাঁচ কার্যদিবস সময় দেওয়া হবে। সেখানে বিরোধী দলসহ সবার মতামত নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বিলটিতে সংশোধনী আনা হবে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
বিল উত্থাপনের সময় নতুন বাহিনীর রূপরেখা, প্রয়োজনীয়তা ও সময়সীমা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। এ সময় তাঁরা পাল্টাপাল্টি যুক্তি দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী র্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে। তবে সাইবার অপরাধ, জুয়া ও মাদক দমনে পুলিশের অধীনে একটি অত্যাধুনিক ও সুসজ্জিত এলিট ফোর্স প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই এসআরবি গঠনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
অতীতের পুলিশের সমালোচনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রধান ছিলেন ‘কুখ্যাত’ বেনজীর। তাই বলে পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করা যায় না। তাঁর ভাষায়, ‘মাথা ব্যথা হলে মাথা কর্তন করা যায় না।’ প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী রাজনৈতিক বা মাফিয়া শক্তির দোষ থাকতে পারে। এর জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না।
নতুন বাহিনীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, এসআরবির কোনো সদস্য শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়ালে তাঁর বিচারের জন্য একটি কমিটি থাকবে। ওই কমিটিতে বেসরকারি সদস্য, মানবাধিকারকর্মী ও বিচারিক কর্মকর্তা থাকবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এর ফলে অতীতের র্যাবের মতো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ নতুন বাহিনীর থাকবে না।
নতুন বাহিনী নিয়ে সতর্ক বিরোধীদলীয় নেতা
র্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবকে স্বাগত জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে নতুন বাহিনী গঠনের আগে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি জানান তিনি।
অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘একবার চুন খেয়ে গাল ঘা হয়েছে, এখন সাদা দই দেখলেও ভয় লাগে।’ র্যাবের কর্মকাণ্ডে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলাকে এর ‘জ্বলন্ত প্রমাণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর ভাষায়, ওই জুলুমের কথা মনে হলে এখনো অনেকে ঘুমাতে পারেন না।
নতুন বাহিনী যেন শুধু নাম পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, জনগণের কাছে এমন ধারণা যেন না যায় যে শুধু ‘এপ্রনটা’ পরিবর্তন করা হয়েছে। বরং পুরো ধারণাটিই যে পরিবর্তন হয়েছে, তা জাতির সামনে প্রমাণ করতে হবে।
বিলটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য আজ উত্থাপন স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি এটি আগামী সপ্তাহে উত্থাপনের প্রস্তাব দেন।
সংসদীয় কমিটিতে যাবে বিল
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর বিলটি নিয়ে সংসদে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘বিশাল হৃদয়ের’ প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিলটি নিয়ে আরও পড়াশোনার জন্য সময় চান।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতার যুক্তির প্রতি সম্মান জানান। তিনি বলেন, বিলটি আজ উত্থাপিত হয়ে সংসদের সম্পত্তি হিসেবে থাকুক। এরপর এটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কমিটিকে অন্তত তিন থেকে পাঁচ কার্যদিবস সময় দেওয়া হবে। সেখানে বিরোধী দলসহ সবার মতামত নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বিলটিতে সংশোধনী আনা হবে।