রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল.
রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর আগমন ঘিরে জেলাজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। দুই দিনের সফরে তিনি নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে।সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি যাবেন জেলা সার্কিট হাউসে। সেখানে তিনি গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।এরপর শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে যাবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।কবর জিয়ারত শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যাবেন শহরের কালীবাড়িতে নিজের বাসভবনে। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন তিনি।বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন।সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজের বাসভবনে ফিরবেন। সেখানে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রাতে সেখানেই তাঁর থাকার কথা রয়েছে।রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি নিজের বাসভবনে ফিরবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে সার্কিট হাউসে যাবেন। পরে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর।বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তারাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য যাতায়াতের পথ, কর্মসূচির স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত।’তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে চান।জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। সফর ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফর ঘিরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিগুলো সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।তিনি বলেন, এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর আগমন ঘিরে জেলাজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। দুই দিনের সফরে তিনি নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে।
সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি যাবেন জেলা সার্কিট হাউসে। সেখানে তিনি গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।
এরপর শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে যাবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।
কবর জিয়ারত শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যাবেন শহরের কালীবাড়িতে নিজের বাসভবনে। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন তিনি।
বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন।
সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজের বাসভবনে ফিরবেন। সেখানে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রাতে সেখানেই তাঁর থাকার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি নিজের বাসভবনে ফিরবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে সার্কিট হাউসে যাবেন। পরে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর।
বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য যাতায়াতের পথ, কর্মসূচির স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত।’
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে চান।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। সফর ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফর ঘিরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিগুলো সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।