বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী.
বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য ও শক্তিশালী উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক সংলাপ ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতার মাধ্যমে সরকার এ নিশ্চয়তা দিতে চায়। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ ও ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকদের সরকারি সহায়তা ও সেবা আরও সমন্বিতভাবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা দেবেন।শিক্ষাব্যবস্থায় আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।প্রথম শ্রেণি থেকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান।তরুণদের দেশের অর্থনীতির বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপে সহায়তার মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করা হবে।বিদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও দেশের তরুণদের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ‘ব্রেইন ড্রেন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের কথাও বলেন তিনি।কৃষিকে অর্থনীতির ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও বাজারসংযোগ সহজ করার কথা জানান। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।পানি ও পরিবেশ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি।আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের সেবায় কার্যকরভাবে নিয়োজিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের পাশাপাশি সংকটের মূল কারণ সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমুদ্রবন্দর, নৌপথ, মৎস্য, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।এই ভৌগোলিক অবস্থানকে আঞ্চলিক সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ।বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির অঞ্চলে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য ও শক্তিশালী উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক সংলাপ ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতার মাধ্যমে সরকার এ নিশ্চয়তা দিতে চায়। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ ও ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকদের সরকারি সহায়তা ও সেবা আরও সমন্বিতভাবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা দেবেন।
শিক্ষাব্যবস্থায় আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।
প্রথম শ্রেণি থেকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান।
তরুণদের দেশের অর্থনীতির বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপে সহায়তার মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
বিদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও দেশের তরুণদের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ‘ব্রেইন ড্রেন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের কথাও বলেন তিনি।
কৃষিকে অর্থনীতির ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও বাজারসংযোগ সহজ করার কথা জানান। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পানি ও পরিবেশ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি।
আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের সেবায় কার্যকরভাবে নিয়োজিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের পাশাপাশি সংকটের মূল কারণ সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমুদ্রবন্দর, নৌপথ, মৎস্য, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ভৌগোলিক অবস্থানকে আঞ্চলিক সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ।
বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির অঞ্চলে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।