রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন.
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত সাতটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণে ইবাদুর রহমান নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। একই রাতে চিটাগং রোড ও কাফরুল থানার সামনে দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের সামনেও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়া হয়। ডিএমপির মিরপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।আবুল বাসার বলেন, থানা-সংলগ্ন এলাকায় একটি ফাঁকা বাসে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে গিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।এর আগে চিটাগং রোডে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। কিছুক্ষণ পর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এতে অটোরিকশাচালক ইবাদুর রহমান আহত হন।পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উড়ালসড়ক থেকে এসব ককটেল নিচে নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু বলেন, প্রথমে থানার প্রধান ফটকের সামনে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কোথা থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা এখনো নিশ্চিত নন। কে বা কারা এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।এর আগে দুপুর থেকে রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনে এবং সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।এ ছাড়া রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং রাত নয়টার দিকে মগবাজার মোড়েও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে রাতে সায়েন্সল্যাব এলাকাতেও ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এতে ওই এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে মানুষকে দৌড়াদৌড়ি করতেও দেখা যায়।পুলিশের ধারণা, আগারগাঁও ছাড়া অন্য কয়েকটি এলাকায় উড়ালসড়ক থেকে নিচে ককটেল ছোড়া হয়েছে।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের কিছু ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।পুলিশ বলছে, কিছুদিন ধরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করছেন। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে এমন একটি মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।পুলিশের দাবি, ওই সময় মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গুলশানের ওই ঘটনার পর ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার ও ওসিকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এর এক সপ্তাহের মধ্যে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আবার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।এর আগে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত সাতটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণে ইবাদুর রহমান নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। একই রাতে চিটাগং রোড ও কাফরুল থানার সামনে দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের সামনেও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়া হয়। ডিএমপির মিরপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আবুল বাসার বলেন, থানা-সংলগ্ন এলাকায় একটি ফাঁকা বাসে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে গিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
এর আগে চিটাগং রোডে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। কিছুক্ষণ পর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এতে অটোরিকশাচালক ইবাদুর রহমান আহত হন।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উড়ালসড়ক থেকে এসব ককটেল নিচে নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু বলেন, প্রথমে থানার প্রধান ফটকের সামনে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কোথা থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা এখনো নিশ্চিত নন। কে বা কারা এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে দুপুর থেকে রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনে এবং সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
এ ছাড়া রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং রাত নয়টার দিকে মগবাজার মোড়েও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে রাতে সায়েন্সল্যাব এলাকাতেও ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এতে ওই এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে মানুষকে দৌড়াদৌড়ি করতেও দেখা যায়।
পুলিশের ধারণা, আগারগাঁও ছাড়া অন্য কয়েকটি এলাকায় উড়ালসড়ক থেকে নিচে ককটেল ছোড়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের কিছু ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ বলছে, কিছুদিন ধরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করছেন। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে এমন একটি মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দাবি, ওই সময় মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গুলশানের ওই ঘটনার পর ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার ও ওসিকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এর এক সপ্তাহের মধ্যে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আবার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।
এর আগে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়।