কুমিল্লায় আবারও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, এক রাতেই আটক ২৫৪
ঢাকাপ্রোব
রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
কুমিল্লায় আবারও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, এক রাতেই আটক ২৫৪.
কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাত আটটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ সক্রিয় চার সদস্য রয়েছেন। তাঁদের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। পুলিশের দাবি, তিনি এই গ্যাংয়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’।কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। নগরসহ প্রতিটি থানা এলাকার যেসব স্থানে উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে।লুৎফুর রহমান বলেন, অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশ নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালাচ্ছে।‘রতন গ্রুপের’ সেকেন্ড ইন কমান্ড আনিকশনিবার রাতে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁদের মধ্যে চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। চারজনই ‘রতন গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য।আটক চারজনের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। তিনি নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, আনিক ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে।পুলিশ জানিয়েছে, রতন বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ কারণে আনিকই গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, শনিবার রাতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে মোট ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা জমে এবং তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়।ওসি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোর গ্যাং লিডার আনিসুর রহমান আনিকও রয়েছেন। কিশোর গ্যাংয়ে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা সবাই ‘রতন গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য। আনিক বর্তমানে ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।পুলিশের ভাষ্য, ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আনিক। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। পরে জামিনে বের হয়ে আবার গ্যাংয়ের নেতৃত্বে যুক্ত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, শনিবারের অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাই ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের নাম-পরিচয় ও আগের অপরাধের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আগের অভিযানে আটক ৬২৪এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ।আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।অপ্রতিম হত্যার পর আলোচনাকুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন নয়। তবে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর একজনকে হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।কুমিল্লা নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাংগুলোর একটি ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’। ২০১৫ সালের দিকে নগরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আলোচনায় আসার পর বিভিন্ন সময়ে গ্রুপটির নাম সামনে এসেছে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাত আটটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ সক্রিয় চার সদস্য রয়েছেন। তাঁদের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। পুলিশের দাবি, তিনি এই গ্যাংয়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। নগরসহ প্রতিটি থানা এলাকার যেসব স্থানে উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে।
লুৎফুর রহমান বলেন, অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশ নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালাচ্ছে।
‘রতন গ্রুপের’ সেকেন্ড ইন কমান্ড আনিক
শনিবার রাতে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁদের মধ্যে চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। চারজনই ‘রতন গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য।
আটক চারজনের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। তিনি নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, আনিক ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে।
পুলিশ জানিয়েছে, রতন বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ কারণে আনিকই গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, শনিবার রাতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে মোট ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা জমে এবং তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
ওসি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোর গ্যাং লিডার আনিসুর রহমান আনিকও রয়েছেন। কিশোর গ্যাংয়ে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা সবাই ‘রতন গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য। আনিক বর্তমানে ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
পুলিশের ভাষ্য, ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আনিক। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। পরে জামিনে বের হয়ে আবার গ্যাংয়ের নেতৃত্বে যুক্ত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, শনিবারের অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাই ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের নাম-পরিচয় ও আগের অপরাধের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগের অভিযানে আটক ৬২৪
এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অপ্রতিম হত্যার পর আলোচনা
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন নয়। তবে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর একজনকে হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কুমিল্লা নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাংগুলোর একটি ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’। ২০১৫ সালের দিকে নগরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আলোচনায় আসার পর বিভিন্ন সময়ে গ্রুপটির নাম সামনে এসেছে।