রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

জয়সওয়াল-ত্রিবেদীর নতুন বার্তা, বদলাবে কি ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক?

জয়সওয়াল-ত্রিবেদীর নতুন বার্তা, বদলাবে কি ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক?
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
কূটনীতির টেবিলে নতুন বাতাস, নাকি সম্পর্কের পুরোনো বরফ গলার সংকেত? সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু কূটনৈতিক তৎপরতা আর শীর্ষ বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে—ঢাকা ও নয়াদিল্লির বন্ধন প্রবেশ করতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়ে! কিন্তু কী সেই নতুন বার্তা? ভারতের অবস্থানই বা ঠিক কী?

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ভারতের ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের মুখে শোনা গেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বক্তব্য।

মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ভারত চায় এই সম্পর্ক এগিয়ে যাক পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে।

ক্ষমতাচ্যুত হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন কিংবা তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে জয়সওয়াল জানান, প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সুনির্দিষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই অনুযায়ী বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এবং এ নিয়ে ভারতের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

কিন্তু গল্পের মূল আকর্ষণের যেন বাকি ছিল অনেকটাই! কূটনৈতিক এই আলোচনার সুরকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি শোনালেন আস্থার বাণী। আহ্বান জানালেন অতীতের বিভেদ ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।

দীনেশ ত্রিবেদীর ভাষায়, অতীতের সমস্যা কিংবা মতপার্থক্যগুলোকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই, তবে সেগুলোকে আঁকড়ে ধরে স্থবির হয়ে থাকাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং অতীতের মতপার্থক্য আলোচনা ও যোগাযোগের মাধ্যমে সমাধান করে 'পারস্পরিক ও নিঃশর্ত আস্থা'র ওপর ভিত্তি করে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক একটি সমতার অংশীদারত্ব। প্রকৃত বন্ধুত্বের আসল শর্তই হলো একে অপরের উদ্বেগ ও সমস্যাগুলো গভীরভাবে বোঝা।

এই সম্পর্কের মূল দিকনির্দেশনা কারা ঠিক করবে? ত্রিবেদীর মতে, উত্তরটা অত্যন্ত পরিষ্কার—দুই দেশের তরুণ প্রজন্ম! নতুন বাংলাদেশের তরুণরা অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছে। তাদের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্নকেই দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রে রাখতে হবে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর। ত্রিবেদীর মতে, কোনো সরকার একা সব করতে পারে না, দুই দেশের বেসরকারি খাত ও ব্যবসায়ী সমাজকে এই যাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

আর ঠিক এই কারণেই, ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা সফরে এসেছিল ভারতের সর্ববৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠন—কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) এক শক্তিশালী প্রতিনিধিদল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন। যদি এই সফর অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা দুই দেশের সম্পর্কে এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

জীবন্ত গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের এই আহ্বানে যেন এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ী সমাজ ও জনগণকে বার্তা দিয়ে বলেছেন—‘চলুন, আমরা এই যাত্রা একসঙ্গে শুরু করি।’

এখন দেখার বিষয়, এই পারস্পরিক ও নিঃশর্ত আস্থার ওপর ভর করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সত্যই কি একটি ‘সোনালি অধ্যায়ে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছে? সময় এর উত্তর দেবে!
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
টেকসই উন্নয়নে গ্রামের উন্নয়ন জরুরি, সরাইলে জেলা পরিষদ প্রশাসক

টেকসই উন্নয়নে গ্রামের উন্নয়ন জরুরি, সরাইলে জেলা পরিষদ প্রশাসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
পিরোজপুরে ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত

পিরোজপুরে ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত

‎ পিরোজপুর প্রতিনিধি
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।