এলএনজি ও সার আমদানিতে বড় ব্যয়ের উদ্যোগ সরকারের.
জ্বালানি ও কৃষি খাতের চাহিদা মেটাতে এলএনজি ও সার আমদানিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্ব্বয় করে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।একই সঙ্গে বেলারুশ, মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে মোট এক লাখ ১০ হাজার টন এমওপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) মূল্যের সঙ্গে প্রতি ইউনিট এলএনজির দামে ০.০৬ মার্কিন ডলার যোগ করে মূল্য নির্ধারণ করা হবে।দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার মধ্যে এলএনজি আমদানির ব্যয়ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করছে। এর মধ্যেই নতুন করে এলএনজি কেনার এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।অন্যদিকে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ডিজেল, জেট এ-১ ও ফার্নেস অয়েল কেনার পাঁচটি প্রস্তাব বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এসব প্যাকেজে মোট সম্ভাব্য ক্রয়মূল্য প্রায় ১১ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা। তবে কোনো প্রস্তাবের ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত ক্রয় অনুমোদন দেওয়া হয়নি।সংশ্লিষ্ট দরদাতাদের প্রস্তাবিত অতিরিক্ত মূল্য ও ভিত্তিমূল্য নিয়ে আলোচনা করে দর পুনর্নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলোচনা শেষে পাওয়া দর পরবর্তী সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।প্যাকেজ-১-এর আওতায় দুই লাখ ২০ হাজার থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার টন জেট এ-১ কেনার প্রস্তাব করা হয়। এর সম্ভাব্য ক্রয়মূল্য চার হাজার ৮০৩ কোটি দুই লাখ টাকা। এ প্যাকেজে ট্রাফিগু রা প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে। প্যাকেজ-২-এ দুই লাখ থেকে দুই লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং ৪০ হাজার টন জেট এ-১ কেনার প্রস্তাব করা হয়। এর সম্ভাব্য ব্যয় চার হাজার ৩২৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজে ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে। প্যাকেজ-৩-এর আওতায় ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব করা হয়। এর সম্ভাব্য ব্যয় ৭৯২ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে। প্যাকেজ-৪-এ ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টন ডিজেল কেনার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৮৯ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রেও ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে। আর প্যাকেজ-৫-এর আওতায় ৭৫ হাজার থেকে এক লাখ টন ফার্নেস অয়েল কেনার প্রস্তাব করা হয়। এর সম্ভাব্য ক্রয়মূল্য ৮০১ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজে ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।১ লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানি : এদিকে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে বেলারুশ, মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে মোট এক লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হাজার টন এমওপি, ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার রয়েছে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বেলারুশ থেকে মেসার্স সুফলা ট্রেডিং করপোরেশনের মাধ্যমে ৩০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রতি টন এমওপি সারের দাম ধরা হয়েছে ৩৯৮.৯৭ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৪৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ হিসাব করা হয়েছে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৯২ পয়সা ধরে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
জ্বালানি ও কৃষি খাতের চাহিদা মেটাতে এলএনজি ও সার আমদানিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্ব্বয় করে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বেলারুশ, মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে মোট এক লাখ ১০ হাজার টন এমওপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) মূল্যের সঙ্গে প্রতি ইউনিট এলএনজির দামে ০.০৬ মার্কিন ডলার যোগ করে মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার মধ্যে এলএনজি আমদানির ব্যয়ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করছে। এর মধ্যেই নতুন করে এলএনজি কেনার এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।
অন্যদিকে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ডিজেল, জেট এ-১ ও ফার্নেস অয়েল কেনার পাঁচটি প্রস্তাব বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এসব প্যাকেজে মোট সম্ভাব্য ক্রয়মূল্য প্রায় ১১ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা। তবে কোনো প্রস্তাবের ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত ক্রয় অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট দরদাতাদের প্রস্তাবিত অতিরিক্ত মূল্য ও ভিত্তিমূল্য নিয়ে আলোচনা করে দর পুনর্নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলোচনা শেষে পাওয়া দর পরবর্তী সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
প্যাকেজ-১-এর আওতায় দুই লাখ ২০ হাজার থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার টন জেট এ-১ কেনার প্রস্তাব করা হয়। এর সম্ভাব্য ক্রয়মূল্য চার হাজার ৮০৩ কোটি দুই লাখ টাকা। এ প্যাকেজে ট্রাফিগু রা প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে। প্যাকেজ-২-এ দুই লাখ থেকে দুই লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং ৪০ হাজার টন জেট এ-১ কেনার প্রস্তাব করা হয়। এর সম্ভাব্য ব্যয় চার হাজার ৩২৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজে ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে। প্যাকেজ-৩-এর আওতায় ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব করা হয়। এর সম্ভাব্য ব্যয় ৭৯২ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে। প্যাকেজ-৪-এ ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টন ডিজেল কেনার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৮৯ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রেও ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে। আর প্যাকেজ-৫-এর আওতায় ৭৫ হাজার থেকে এক লাখ টন ফার্নেস অয়েল কেনার প্রস্তাব করা হয়। এর সম্ভাব্য ক্রয়মূল্য ৮০১ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজে ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
১ লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানি : এদিকে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে বেলারুশ, মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে মোট এক লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হাজার টন এমওপি, ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার রয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বেলারুশ থেকে মেসার্স সুফলা ট্রেডিং করপোরেশনের মাধ্যমে ৩০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রতি টন এমওপি সারের দাম ধরা হয়েছে ৩৯৮.৯৭ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৪৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ হিসাব করা হয়েছে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৯২ পয়সা ধরে।