একজন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা কেমন, সংবিধানে যা আছে
বিন আমিন
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
একজন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা কেমন, সংবিধানে যা আছে.
সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তারপর শূন্য পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে জাতীয় সংসদের স্পিকার এই দায়িত্ব হাতে নেন। কিন্তু যে পদ ঘিরে এত তোলপাড়, বঙ্গভবনের সেই লাল গালিচা ও স্বর্ণালী চেয়ারে আসীন ব্যক্তির প্রকৃত ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো ঠিক কতটা? আসুন, সংবিধানের পাতায় চোখ রেখে উন্মোচিত করি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও মর্যাদার আসল চিত্র!গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আটচল্লিশের এক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তি। তিনি দেশের সব নাগরিকের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন। তবে তাঁর মূল ক্ষমতাগুলো মূলত সাংবিধানিক কিছু বিধিমালার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়।প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করা: সংবিধানের আটচল্লিশের তিন অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতির নিয়োগ—এই দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।সংবিধানের পঁচানব্বই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সরাসরি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।তাছাড়া, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত কোনো বিল পাস হওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য বঙ্গভবনে পাঠানো হয়। তাঁর স্বাক্ষর মিললেই বিলটি আইনে পরিণত হয়। এমনকি সংসদ অধিবেশন চালু না থাকলে জরুরি মুহূর্তে অনুচ্ছেদ তিরানব্বই অনুযায়ী তিনি 'অধ্যাদেশ' বা জরুরি আইন জারি করতে পারেন।রাষ্ট্রপতি দেশের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী) সর্বাধিনায়ক।সংবিধানের উনপঞ্চাশ নম্বর অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে এক অনন্য মানবিক ও সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করেছে। তিনি চাইলে যেকোনো বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড কমিয়ে দিতে পারেন, মাফ করে দিতে পারেন, এমনকি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসিও মওকুফ করতে পারেন।এবার জানা যাক তিনি কি কি সুযোগ-সুবিধা পান? রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন একজন ব্যক্তি পান সর্বোচ্চ আইনি সুরক্ষা—সংবিধানের একান্ন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না এবং কোনো আদালত থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতার বা আটকাদেশ জারি করা সম্ভব নয়।রাষ্ট্রপতি শুধু রাষ্ট্রপ্রধানই নন, তাঁর পদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সর্বোচ্চ মাত্রার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও রাজকীয় আতিথেয়তা। তিনি রাষ্ট্রীয় বাসস্থান 'বঙ্গভবন'-এ বসবাস করেন। ঐতিহাসিক এই প্রাসাদের সম্পূর্ণ খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ও আপ্যায়ন ব্যয় রাষ্ট্র বহন করে।'প্রেসিডেন্টস রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রভিলেজ অ্যাক্ট' অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত মাসিক মূল বেতন, করমুক্ত বিশেষ চিকিৎসা সুবিধা ও অন্যান্য ভাতা পেয়ে থাকেন। রাষ্ট্রপতির সার্বক্ষণিক সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট। তাঁর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয় বুলেটপ্রুফ ভিআইপি যানবাহন, স্পেশাল হেলিকপ্টার এবং এয়ারক্রাফট।দায়িত্বপালন শেষে অবসরে গেলেও রাষ্ট্রপতি আজীবন বিশেষ ভাতা, ব্যক্তিগত সহকারী, আজীবন নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে থাকেন।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তারপর শূন্য পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে জাতীয় সংসদের স্পিকার এই দায়িত্ব হাতে নেন।
কিন্তু যে পদ ঘিরে এত তোলপাড়, বঙ্গভবনের সেই লাল গালিচা ও স্বর্ণালী চেয়ারে আসীন ব্যক্তির প্রকৃত ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো ঠিক কতটা? আসুন, সংবিধানের পাতায় চোখ রেখে উন্মোচিত করি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও মর্যাদার আসল চিত্র!
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আটচল্লিশের এক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তি। তিনি দেশের সব নাগরিকের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন। তবে তাঁর মূল ক্ষমতাগুলো মূলত সাংবিধানিক কিছু বিধিমালার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করা: সংবিধানের আটচল্লিশের তিন অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতির নিয়োগ—এই দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।
সংবিধানের পঁচানব্বই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সরাসরি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
তাছাড়া, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত কোনো বিল পাস হওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য বঙ্গভবনে পাঠানো হয়। তাঁর স্বাক্ষর মিললেই বিলটি আইনে পরিণত হয়। এমনকি সংসদ অধিবেশন চালু না থাকলে জরুরি মুহূর্তে অনুচ্ছেদ তিরানব্বই অনুযায়ী তিনি 'অধ্যাদেশ' বা জরুরি আইন জারি করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি দেশের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী) সর্বাধিনায়ক।
সংবিধানের উনপঞ্চাশ নম্বর অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে এক অনন্য মানবিক ও সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করেছে। তিনি চাইলে যেকোনো বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড কমিয়ে দিতে পারেন, মাফ করে দিতে পারেন, এমনকি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসিও মওকুফ করতে পারেন।
এবার জানা যাক তিনি কি কি সুযোগ-সুবিধা পান? রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন একজন ব্যক্তি পান সর্বোচ্চ আইনি সুরক্ষা—সংবিধানের একান্ন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না এবং কোনো আদালত থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতার বা আটকাদেশ জারি করা সম্ভব নয়।
রাষ্ট্রপতি শুধু রাষ্ট্রপ্রধানই নন, তাঁর পদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সর্বোচ্চ মাত্রার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও রাজকীয় আতিথেয়তা। তিনি রাষ্ট্রীয় বাসস্থান 'বঙ্গভবন'-এ বসবাস করেন। ঐতিহাসিক এই প্রাসাদের সম্পূর্ণ খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ও আপ্যায়ন ব্যয় রাষ্ট্র বহন করে।
'প্রেসিডেন্টস রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রভিলেজ অ্যাক্ট' অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত মাসিক মূল বেতন, করমুক্ত বিশেষ চিকিৎসা সুবিধা ও অন্যান্য ভাতা পেয়ে থাকেন। রাষ্ট্রপতির সার্বক্ষণিক সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট। তাঁর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয় বুলেটপ্রুফ ভিআইপি যানবাহন, স্পেশাল হেলিকপ্টার এবং এয়ারক্রাফট।
দায়িত্বপালন শেষে অবসরে গেলেও রাষ্ট্রপতি আজীবন বিশেষ ভাতা, ব্যক্তিগত সহকারী, আজীবন নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে থাকেন।