আলুতে লাভ নেই, হিমাগার ভাড়াতেই আড়াই হাজার কোটি টাকা!
নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
আলুতে লাভ নেই, হিমাগার ভাড়াতেই আড়াই হাজার কোটি টাকা!.
দেশে আলুর উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও কৃষকের লাভ নিশ্চিত হচ্ছে না। উৎপাদিত আলু সংরক্ষণে পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় বাণিজ্যিক হিমাগারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। শুধু হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাবদ এক মৌসুমেই খরচ হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন, বস্তা, লোডিং-আনলোডিং, বাছাইসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ হলে আলু সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের খরচ আরও বেড়ে যায়।সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে দেশের ৩৫১টি হিমাগারে প্রায় ৩৪ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়। সরকার নির্ধারিত কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা ভাড়া হিসাবে এ পরিমাণ আলু সংরক্ষণে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা।তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪০০টির বেশি বাণিজ্যিক হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টন। এর ৯৩ থেকে ৯৭ শতাংশই আলু সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। বেশির ভাগ হিমাগার বেসরকারি মালিকানাধীন।বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অধীনে বীজ আলু প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণের জন্য সারা দেশে ৩০টি হিমাগার রয়েছে। তবে এসব হিমাগারে সরকারি ব্যবস্থাপনায় শুধু বীজ আলু সংরক্ষণ করা হয়।গত মৌসুমে দেশে ১ কোটি ১০ লাখ টনের বেশি আলু উৎপাদিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, খাদ্য ও বীজ হিসেবে দেশে বছরে আলুর চাহিদা ৮০ থেকে ৯০ লাখ টন। ফলে প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত থাকে। উৎপাদনের তুলনায় সংরক্ষণ সক্ষমতা কম হওয়ায় মৌসুমের শুরুতে বাজারে আলুর সরবরাহ বেড়ে যায়। এতে কৃষক পর্যায়ে দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, হিমাগারে সংরক্ষণসহ কৃষকের প্রতি কেজি আলুর খরচ পড়ে ১৮ থেকে ২৫ টাকা। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে অনেক এলাকায় কৃষককে এর চেয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও লাভের মুখ দেখছেন না অনেক কৃষক।হিমাগার ভাড়া নিয়ে কৃষকের ক্ষোভআলু সংরক্ষণের খরচ নিয়ে কয়েক বছর ধরেই কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি ৮ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর প্রতিবাদ জানান কৃষকরা। পরে সরকার হিমাগারে আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করে।কৃষকদের অভিযোগ, হিমাগার মালিকরা ফের ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। গত আগস্টে আলুচাষিরা সংবাদ সম্মেলন করে আগামী মৌসুমে হিমাগার ভাড়া কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধির কারণে চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। আলু বিক্রি করে যে আয় হচ্ছে, তার বড় অংশই হিমাগার ভাড়া পরিশোধে চলে যাচ্ছে।মালিকদের দাবি, ভাড়া কমিয়ে চালানো সম্ভব নয়অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় হিমাগার পরিচালনা করা কঠিন বলে দাবি করছেন মালিকরা। তাঁদের হিসাবে, প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে খরচ পড়ে ৭ টাকা ১১ পয়সা।বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, আগে হিমাগার ভাড়া ছিল কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা। সম্প্রতি তা কমিয়ে ৬ টাকা করা হয়েছে। ২৫টি জেলার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।তাঁর দাবি, ভাড়া কমানোর ফলে হিমাগার মালিকরা প্রায় ১৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা থেকে বঞ্চিত হবেন। তিনি বলেন, ‘লোকসান দিয়ে তো আমরা ব্যবসা করতে পারব না।’ তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ লাখ টন আলুর মধ্যে এখনো প্রায় ২৩ লাখ টন হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে।সংগঠনটির দাবি, চলতি বছর হিমাগারশিল্পে বিদ্যুতের দাম ১৮ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মৌসুমের মাঝপথে হিমাগার ভাড়া কমানোয় মালিকদের আয় কমে যাবে এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধে তাঁরা সমস্যায় পড়বেন।হিমাগার মালিকদের আশঙ্কা, পরিচালন ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে অনেক হিমাগার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে আলু সংরক্ষণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
দেশে আলুর উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও কৃষকের লাভ নিশ্চিত হচ্ছে না। উৎপাদিত আলু সংরক্ষণে পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় বাণিজ্যিক হিমাগারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। শুধু হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাবদ এক মৌসুমেই খরচ হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন, বস্তা, লোডিং-আনলোডিং, বাছাইসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ হলে আলু সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের খরচ আরও বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে দেশের ৩৫১টি হিমাগারে প্রায় ৩৪ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়। সরকার নির্ধারিত কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা ভাড়া হিসাবে এ পরিমাণ আলু সংরক্ষণে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা।
তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪০০টির বেশি বাণিজ্যিক হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টন। এর ৯৩ থেকে ৯৭ শতাংশই আলু সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। বেশির ভাগ হিমাগার বেসরকারি মালিকানাধীন।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অধীনে বীজ আলু প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণের জন্য সারা দেশে ৩০টি হিমাগার রয়েছে। তবে এসব হিমাগারে সরকারি ব্যবস্থাপনায় শুধু বীজ আলু সংরক্ষণ করা হয়।
গত মৌসুমে দেশে ১ কোটি ১০ লাখ টনের বেশি আলু উৎপাদিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, খাদ্য ও বীজ হিসেবে দেশে বছরে আলুর চাহিদা ৮০ থেকে ৯০ লাখ টন। ফলে প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত থাকে। উৎপাদনের তুলনায় সংরক্ষণ সক্ষমতা কম হওয়ায় মৌসুমের শুরুতে বাজারে আলুর সরবরাহ বেড়ে যায়। এতে কৃষক পর্যায়ে দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, হিমাগারে সংরক্ষণসহ কৃষকের প্রতি কেজি আলুর খরচ পড়ে ১৮ থেকে ২৫ টাকা। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে অনেক এলাকায় কৃষককে এর চেয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও লাভের মুখ দেখছেন না অনেক কৃষক।
হিমাগার ভাড়া নিয়ে কৃষকের ক্ষোভ
আলু সংরক্ষণের খরচ নিয়ে কয়েক বছর ধরেই কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি ৮ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর প্রতিবাদ জানান কৃষকরা। পরে সরকার হিমাগারে আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করে।
কৃষকদের অভিযোগ, হিমাগার মালিকরা ফের ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। গত আগস্টে আলুচাষিরা সংবাদ সম্মেলন করে আগামী মৌসুমে হিমাগার ভাড়া কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধির কারণে চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। আলু বিক্রি করে যে আয় হচ্ছে, তার বড় অংশই হিমাগার ভাড়া পরিশোধে চলে যাচ্ছে।
মালিকদের দাবি, ভাড়া কমিয়ে চালানো সম্ভব নয়
অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় হিমাগার পরিচালনা করা কঠিন বলে দাবি করছেন মালিকরা। তাঁদের হিসাবে, প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে খরচ পড়ে ৭ টাকা ১১ পয়সা।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, আগে হিমাগার ভাড়া ছিল কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা। সম্প্রতি তা কমিয়ে ৬ টাকা করা হয়েছে। ২৫টি জেলার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর দাবি, ভাড়া কমানোর ফলে হিমাগার মালিকরা প্রায় ১৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা থেকে বঞ্চিত হবেন। তিনি বলেন, ‘লোকসান দিয়ে তো আমরা ব্যবসা করতে পারব না।’ তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ লাখ টন আলুর মধ্যে এখনো প্রায় ২৩ লাখ টন হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, চলতি বছর হিমাগারশিল্পে বিদ্যুতের দাম ১৮ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মৌসুমের মাঝপথে হিমাগার ভাড়া কমানোয় মালিকদের আয় কমে যাবে এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধে তাঁরা সমস্যায় পড়বেন।
হিমাগার মালিকদের আশঙ্কা, পরিচালন ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে অনেক হিমাগার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে আলু সংরক্ষণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।