টানা ২৫ বছর ক্ষমতায়, নতুন লক্ষ্য মোদির.
টানা ২৫ বছর জনপ্রতিনিধি ও সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি।এই মাইলফলক উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় ভাষণ দিয়েছেন মোদি। সেখানে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘উন্নত ভারত’-এ রূপান্তরের অঙ্গীকার করেন তিনি।অনুষ্ঠানে দেশবাসীকে ‘আমরাই করব’—এই মনোভাব ধারণের আহ্বান জানান মোদি। তিনি বলেন, ভারতের থেমে থাকার কোনো সুযোগ বা কারণ নেই।মোদি বলেন, এক শতক আগে ভারতের জনসংখ্যা ছিল ৪০ কোটিরও কম। এখন দেশটির জনসংখ্যা ১৪০ কোটি। এই ১৪০ কোটি মানুষ মিলে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।২০৪৭ সালের লক্ষ্যের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন মোদি। একই সঙ্গে দেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে স্বাবলম্বী করা, অলিম্পিক গেমস আয়োজনের দৌড়ে শামিল হওয়া এবং মহাকাশ গবেষণায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যও তুলে ধরেন তিনি।দেশবাসীর ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর কাছে দেশের জনগণই ঈশ্বর। আর কঠোর পরিশ্রমী বিজেপি কর্মীরাই তাঁর মূল শক্তি।মোদি আরও বলেন, শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করেছেন। আর সমালোচকেরা তাঁকে নিজের দিকে ফিরে তাকাতে শিখিয়েছেন।নিজের অতীত জীবনের স্মৃতিচারণা করে মোদি বলেন, ২৫ বছর আগে ৫০ বছর বয়সে তাঁর সময় কাটত বনাঞ্চলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সেবা করে। পাহাড়ের সান্নিধ্যেও থাকতেন তিনি। পরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হন।মোদি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে ছিল কেবল একজন সাংগঠনিক কর্মীর কাজ। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি নিজে কখনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।নির্বাচনী রাজনীতিতে তারকা হওয়ার ব্যক্তিগত কোনো ইচ্ছা তাঁর ছিল না বলেও জানান মোদি। তাঁর ভাষায়, নির্বাচনী রাজনীতিতে আলো ছড়ানোর মানসিকতা থাকলে তিনি অনেক আগেই মাঠে নামতেন।নিজের ভবিষ্যৎ বা জীবনে কী হবেন, তা নিয়ে ভাবার সময়ও তাঁর ছিল না বলে জানান তিনি। মোদি বলেন, শৈশব থেকেই তিনি শিখেছেন, কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য নয়; বরং কোনো মিশন বা লক্ষ্যের জন্য বাঁচতে হয়।নিজের সরকারের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, একসময় যা অকল্পনীয় মনে হতো, তা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে তিনি ২৫ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার কথা উল্লেখ করেন।মোদি বলেন, ২৫ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি এখন বলতে পারেন, ভারতের এই পরিবর্তন সবার চোখের সামনেই ঘটছে।বক্তব্যে ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের প্রসঙ্গও তোলেন মোদি। ককপিটে কো-পাইলটের ছুরিকাঘাতের পরও ইসরায়েলগামী বিমানটি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করায় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।মোদি বলেন, পুরো বিশ্ব এখন ভারতের ওই পাইলটের প্রশংসা করছে। একদিন এমন সময় আসবে, যখন পুরো বিশ্ব ভারতে তৈরি বিমান নিয়েও কথা বলবে।ভোটের রাজনীতি ও সামাজিক বিভাজনকে ভারতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন মোদি। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি নতুন স্লোগানের কথা বলেন।তিনি প্রশ্ন রাখেন, কোনো কৃষকের ক্ষেতে পানির অভাব হলে সেই সমস্যা কি কোনো নির্দিষ্ট জাতির ওপর পড়ে? বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকার কি কেবল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসে? তাঁর উত্তর—না।মোদি বলেন, সমস্যা যদি সবার হয়, তাহলে এর সমাধানও হতে হবে সবার জন্য।২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নেওয়ার সময় ২৫ বছরের এই দীর্ঘ ও অবিচ্ছিন্ন জনসেবার যাত্রা হবে, তা তিনি কখনো ভাবেননি বলেও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
টানা ২৫ বছর জনপ্রতিনিধি ও সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি।
এই মাইলফলক উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় ভাষণ দিয়েছেন মোদি। সেখানে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘উন্নত ভারত’-এ রূপান্তরের অঙ্গীকার করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দেশবাসীকে ‘আমরাই করব’—এই মনোভাব ধারণের আহ্বান জানান মোদি। তিনি বলেন, ভারতের থেমে থাকার কোনো সুযোগ বা কারণ নেই।
মোদি বলেন, এক শতক আগে ভারতের জনসংখ্যা ছিল ৪০ কোটিরও কম। এখন দেশটির জনসংখ্যা ১৪০ কোটি। এই ১৪০ কোটি মানুষ মিলে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
২০৪৭ সালের লক্ষ্যের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন মোদি। একই সঙ্গে দেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে স্বাবলম্বী করা, অলিম্পিক গেমস আয়োজনের দৌড়ে শামিল হওয়া এবং মহাকাশ গবেষণায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যও তুলে ধরেন তিনি।
দেশবাসীর ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর কাছে দেশের জনগণই ঈশ্বর। আর কঠোর পরিশ্রমী বিজেপি কর্মীরাই তাঁর মূল শক্তি।
মোদি আরও বলেন, শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করেছেন। আর সমালোচকেরা তাঁকে নিজের দিকে ফিরে তাকাতে শিখিয়েছেন।
নিজের অতীত জীবনের স্মৃতিচারণা করে মোদি বলেন, ২৫ বছর আগে ৫০ বছর বয়সে তাঁর সময় কাটত বনাঞ্চলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সেবা করে। পাহাড়ের সান্নিধ্যেও থাকতেন তিনি। পরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হন।
মোদি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে ছিল কেবল একজন সাংগঠনিক কর্মীর কাজ। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি নিজে কখনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।
নির্বাচনী রাজনীতিতে তারকা হওয়ার ব্যক্তিগত কোনো ইচ্ছা তাঁর ছিল না বলেও জানান মোদি। তাঁর ভাষায়, নির্বাচনী রাজনীতিতে আলো ছড়ানোর মানসিকতা থাকলে তিনি অনেক আগেই মাঠে নামতেন।
নিজের ভবিষ্যৎ বা জীবনে কী হবেন, তা নিয়ে ভাবার সময়ও তাঁর ছিল না বলে জানান তিনি। মোদি বলেন, শৈশব থেকেই তিনি শিখেছেন, কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য নয়; বরং কোনো মিশন বা লক্ষ্যের জন্য বাঁচতে হয়।
নিজের সরকারের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, একসময় যা অকল্পনীয় মনে হতো, তা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে তিনি ২৫ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার কথা উল্লেখ করেন।
মোদি বলেন, ২৫ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি এখন বলতে পারেন, ভারতের এই পরিবর্তন সবার চোখের সামনেই ঘটছে।
বক্তব্যে ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের প্রসঙ্গও তোলেন মোদি। ককপিটে কো-পাইলটের ছুরিকাঘাতের পরও ইসরায়েলগামী বিমানটি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করায় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।
মোদি বলেন, পুরো বিশ্ব এখন ভারতের ওই পাইলটের প্রশংসা করছে। একদিন এমন সময় আসবে, যখন পুরো বিশ্ব ভারতে তৈরি বিমান নিয়েও কথা বলবে।
ভোটের রাজনীতি ও সামাজিক বিভাজনকে ভারতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন মোদি। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি নতুন স্লোগানের কথা বলেন।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, কোনো কৃষকের ক্ষেতে পানির অভাব হলে সেই সমস্যা কি কোনো নির্দিষ্ট জাতির ওপর পড়ে? বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকার কি কেবল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসে? তাঁর উত্তর—না।
মোদি বলেন, সমস্যা যদি সবার হয়, তাহলে এর সমাধানও হতে হবে সবার জন্য।
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নেওয়ার সময় ২৫ বছরের এই দীর্ঘ ও অবিচ্ছিন্ন জনসেবার যাত্রা হবে, তা তিনি কখনো ভাবেননি বলেও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।