সোমবারবাংলা: ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, সতর্ক করল চীন-রাশিয়া

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, সতর্ক করল চীন-রাশিয়া
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে কক্ষপথে ‘মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র’ রয়েছে।

মেরিল্যান্ডে স্থানীয় সময় সোমবার অনুষ্ঠিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার’ সম্মেলনে এ কথা জানান মেইঙ্ক। সম্মেলনের আয়োজক এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন।
মেইঙ্ক বলেন, হুমকি যেখান থেকেই আসুক, তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। এ কারণেই কক্ষপথে মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র রাখা হয়েছে এবং প্রতিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। প্রশ্নোত্তর পর্বেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান মেইঙ্ক। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যের ভাষা ‘খুব ভেবেচিন্তে নির্ধারণ করা হয়েছে’।
মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মেইঙ্ক সম্ভবত এমন প্রযুক্তির কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে মার্কিন স্যাটেলাইট বা সামরিক ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করা শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংস করা সম্ভব।

চীন-রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ঘোষণা।
চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশকেন্দ্রিক উত্তেজনার মধ্যেই অস্ত্র মোতায়েনের এই স্বীকারোক্তি এলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে মার্কিন অস্ত্র থাকার বিষয়টি এতদিন অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

সম্মেলনে মার্কিন স্পেস অপারেশন্সের প্রধান জেনারেল ডগলাস শিয়েসও বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, স্পেস ফোর্স না থাকলে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করা সম্ভব হতো না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। এসব অভিযানে মহাকাশভিত্তিক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে।

মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণার পর ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে চীন।

রাশিয়াও মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, মহাকাশের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য প্রয়োজন।

সামনে আসছে ‘স্টার ওয়ার্স’-এর স্মৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তৎপরতা স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ‘স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভ’ বা ‘স্টার ওয়ার্স’ কর্মসূচির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

১৯৮৩ সালে রিগ্যান মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই প্রকল্প আর বাস্তবায়িত হয়নি।
২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মার্কিন স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে সময় মহাকাশকে ‘বিশ্বের নতুন যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। পরে যুক্তরাষ্ট্র ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনাও সামনে আনে, যার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা কতটা পুরোনো?
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া এরই মধ্যে স্যাটেলাইট বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।
২০২১ সালে রাশিয়া একটি অব্যবহৃত সোভিয়েত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ধ্বংস করে। এর আগে ২০১৯ সালে ভারতও একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস করার সক্ষমতা প্রদর্শন করে।

১৯৫৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন কক্ষপথে ‘স্পুটনিক’ পাঠানোর পর থেকেই মহাকাশকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এবার মহাকাশে অস্ত্র থাকার কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি সেই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।