ইথিওপিয়ার টাইগ্রেতে তিন দিনের সংঘর্ষে নিহত ৫২ বেসামরিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
ইথিওপিয়ার টাইগ্রেতে তিন দিনের সংঘর্ষে নিহত ৫২ বেসামরিক.
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রে অঞ্চলের আলামাতা শহর ও আশপাশে সরকারি বাহিনী এবং আঞ্চলিক যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৫২ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তিন দিনের লড়াইয়ে ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত আলামাতা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক লড়াই হয়। এতে ভারী বিস্ফোরক ও কামান ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকটি হামলায় আবাসিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।আলামাতা জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বিবিসিকে জানান, নিহতদের মধ্যে তিন দিন বয়সী একটি শিশুসহ নারী ও গবাদিপশু চরানো মানুষ রয়েছেন। শহরের একটি বাজারে হামলায় একসঙ্গে ১২ জন নিহত হয়েছেন।আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেডসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টাইগ্রের তাদের সহায়তা পাওয়া হাসপাতালগুলোতে ৭০০ জনের বেশি আহত মানুষ ভর্তি হয়েছেন।সংঘর্ষের পর আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ সরকারি বাহিনী নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরের রাস্তায় ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান দেখা গেছে। সরকারি বাহিনী টাইগ্রের রাজধানী মেকেলের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।রয়টার্স জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা আলামাতা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। ভিডিও ফুটেজ ও কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যেও শহরটির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে। আলামাতা মেকেলের প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। শহরটি টাইগ্রের দক্ষিণ সীমান্তের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র।টাইগ্রে নিয়ন্ত্রণকারী টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) ও ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। গত সপ্তাহে তা নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ২০২২ সালে দুই বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানে হওয়া শান্তিচুক্তির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। সাম্প্রতিক লড়াই সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।সংঘর্ষ কে শুরু করেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। টিপিএলএফের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের হামলা ও ড্রোন হামলার জবাবে তারা পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। অন্যদিকে ইথিওপিয়া সরকার বলছে, টিপিএলএফের যোদ্ধারাই প্রথম হামলা চালায়। কয়েকটি বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সংঘর্ষ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেছে সরকার।সংঘর্ষের প্রভাব পাশের আমহারা ও আফার অঞ্চলেও পড়েছে। লালিবেলা শহরে বিমানবন্দর বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ থাকায় পর্যটকেরা আটকা পড়েছেন। সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।টাইগ্রেতে ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, টাইগ্রেতে ইন্টারনেট ও ফোন নেটওয়ার্ক কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।ইথিওপিয়া সরকার প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার অভিযোগ করেছে। ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নতুন করে সংঘাত বাড়ায় ইরিত্রিয়াও এতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টিপিএলএফ ও ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধের অবসানে ২০২২ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় শান্তিচুক্তি হয়। নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় ওই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রে অঞ্চলের আলামাতা শহর ও আশপাশে সরকারি বাহিনী এবং আঞ্চলিক যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৫২ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তিন দিনের লড়াইয়ে ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত আলামাতা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক লড়াই হয়। এতে ভারী বিস্ফোরক ও কামান ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকটি হামলায় আবাসিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আলামাতা জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বিবিসিকে জানান, নিহতদের মধ্যে তিন দিন বয়সী একটি শিশুসহ নারী ও গবাদিপশু চরানো মানুষ রয়েছেন। শহরের একটি বাজারে হামলায় একসঙ্গে ১২ জন নিহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেডসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টাইগ্রের তাদের সহায়তা পাওয়া হাসপাতালগুলোতে ৭০০ জনের বেশি আহত মানুষ ভর্তি হয়েছেন।
সংঘর্ষের পর আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ সরকারি বাহিনী নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরের রাস্তায় ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান দেখা গেছে। সরকারি বাহিনী টাইগ্রের রাজধানী মেকেলের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা আলামাতা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। ভিডিও ফুটেজ ও কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যেও শহরটির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে। আলামাতা মেকেলের প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। শহরটি টাইগ্রের দক্ষিণ সীমান্তের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র।
টাইগ্রে নিয়ন্ত্রণকারী টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) ও ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। গত সপ্তাহে তা নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ২০২২ সালে দুই বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানে হওয়া শান্তিচুক্তির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। সাম্প্রতিক লড়াই সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সংঘর্ষ কে শুরু করেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। টিপিএলএফের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের হামলা ও ড্রোন হামলার জবাবে তারা পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। অন্যদিকে ইথিওপিয়া সরকার বলছে, টিপিএলএফের যোদ্ধারাই প্রথম হামলা চালায়। কয়েকটি বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সংঘর্ষ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেছে সরকার।
সংঘর্ষের প্রভাব পাশের আমহারা ও আফার অঞ্চলেও পড়েছে। লালিবেলা শহরে বিমানবন্দর বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ থাকায় পর্যটকেরা আটকা পড়েছেন। সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
টাইগ্রেতে ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, টাইগ্রেতে ইন্টারনেট ও ফোন নেটওয়ার্ক কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
ইথিওপিয়া সরকার প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার অভিযোগ করেছে। ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নতুন করে সংঘাত বাড়ায় ইরিত্রিয়াও এতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টিপিএলএফ ও ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধের অবসানে ২০২২ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় শান্তিচুক্তি হয়। নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় ওই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।