সোমবারবাংলা: ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যা বাড়ছে

ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যা বাড়ছে
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে চলেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই দেশটির ২৫ সেনাসদস্য আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হারেৎজ জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ২৫ সেনাসদস্য আত্মহত্যা করেন। তাদের মধ্যে ১৬ জন আত্মহত্যার সময় সক্রিয় দায়িত্বে ছিলেন। বাকি ৯ জন ছিলেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা। অবসর নেওয়া ওই ৯ জনই গাজায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পরিচালিত সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল সেভেনের পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেও অন্তত তিন ইসরায়েলি সেনাসদস্য আত্মহত্যা করেছেন। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ১৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন মধ্য ইসরায়েলের একটি এলাকার একটি বাড়ি থেকে এক সেনাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি তদন্ত করছে দেশটির সামরিক পুলিশ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের ইসরায়েলে হামলার পরদিন ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে আইডিএফ। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ওই অভিযানে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার করেনি।

এরই মধ্যে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে লেবাননেও সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। সেই অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। ফলে ইসরায়েলি সেনাদের একটি অংশকে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক সামরিক অভিযানে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী সামরিক দায়িত্বের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছিল, দুই বছরে মানসিক সমস্যার কারণে চিকিৎসা নেওয়া সেনাসদস্যের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সূত্রটির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মানসিক সমস্যার কারণে চিকিৎসাধীন সেনাসদস্যের সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ হাজার। দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩১ হাজারে দাঁড়ায়।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশটির প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৩৮ শতাংশ সদস্য বর্তমানে কোনো না কোনো ধরনের মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক দায়িত্ব, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং একাধিক সংঘাতে অংশগ্রহণের কারণে সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি দেশটির নিরাপত্তা কাঠামোয় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তবে আত্মহত্যার প্রতিটি ঘটনার কারণ আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান বা মানসিক সমস্যার সঙ্গে এসব মৃত্যুর সরাসরি কারণগত সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত কেবল এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে টানা যায় না।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।