সোমবারবাংলা: ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

হুতির হামলার পর সৌদি আরবে বাড়ল নিরাপত্তা উদ্বেগ

হুতির হামলার পর সৌদি আরবে বাড়ল নিরাপত্তা উদ্বেগ
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
ইরান-সমর্থিত হুতিদের টানা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও। মঙ্গলবার মক্কা ও জেদ্দাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। পরে এসব সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও হামলার আশঙ্কা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। 
মক্কার আকাশসীমা ঘিরে বিশেষ সতর্কতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের দাবি, ড্রোনটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়। তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় হুতিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু কৌশলগত এলাকা ও দ্বীপে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

বাব আল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার মধ্যে বাব আল-মানদেব নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। 

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের ওপর নির্ভর করছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে ড্রোন হামলায় পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দরে তেল সরবরাহ ও রপ্তানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। 

প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি সৌদি আরবের তেলকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর উপকূলে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট অবশ্য বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে তেল সরবরাহ আবার শুরু হতে পারে। তবে মেরামতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হিসাব রয়েছে। 

এদিকে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার জবাবে সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। সৌদি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক একটি হামলায় সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটির কাছে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। 

সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায়। দিনের শেষে ব্রেন্টের দাম ১০৮ দশমিক ৭৫ ডলারে স্থির হয়। হরমুজ ও বাব আল-মানদেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি সৌদি তেল অবকাঠামোয় হামলার কারণে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা আরও বেড়েছে। 

লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরব আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করছে। মঙ্গলবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে বৈঠকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইয়েমেনের সংঘাতের একটি রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। 

একই সময়ে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও সামরিক সহায়তা চেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সহায়তা মূলত গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি ও লক্ষ্য শনাক্তকরণের সহযোগিতার মধ্যে সীমিত রয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও হুতিদের হামলা মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। 

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও ক্রমেই সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে, যেখানে সংঘাতের আগে দৈনিক গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজ চলাচল করত। একই সময়ে বাব আল-মানদেবেও জাহাজ চলাচল কমেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন সংকট।
২০১৫ সাল থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। ২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনের সংঘাত অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই স্থিতাবস্থা ভেঙে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে। হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। 

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও নতুন করে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একদিকে হুতিদের হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি করছে, অন্যদিকে সৌদি আরবকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিলে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে সৌদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা সীমিত রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন সামনে এসেছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরব নিয়ে নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সতর্কবার্তায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংক্রান্ত স্থানীয় আইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন সীমান্ত এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

সব মিলিয়ে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের অগ্রযাত্রা, সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকছে না; বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য ও তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। 
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।