ছবি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
কানাডার মন্ট্রিয়লে বসবাসকারী শরীফ উল্লাহর বিরুদ্ধে অতীতে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পর এখন কানাডা যুবলীগের সভাপতির পদ পেতে তৎপরতা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কানাডা প্রবাসী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে শরীফ উল্লাহর সম্পৃক্ততার বিভিন্ন ছবি ও অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে। বিএনপির নেতা এজাজ তৌফিকের সঙ্গে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ছবিও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কানাডায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সফরের সময় বিএনপি- জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান নিয়ে শরীফ উল্লাহ আওয়ামী লীগ বিরোধী স্লোগান ও নানা ধরনের বক্তব্য দেন। ওই সময় কানাডা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও তার ভাইয়ের সঙ্গে শরীফ উল্লাহর বিরোধ এবং মারামারি, হামলা ও মামলার ঘটনাও ঘটেছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শরীফ উল্লাহ এখন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কানাডা যুবলীগের সভাপতির পদ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে তদবির, বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন, প্রভাব খাটানো এবং আঞ্চলিক পরিচয়কে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কানাডা প্রবাসী আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না এমন কাউকে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশ হবেন। তারা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে একজন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ কর্মীকে কানাডা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
তবে শরীফ উল্লাহর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, কানাডা যুবলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণের আগে প্রার্থীদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সংগঠনের প্রতি দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো যাচাই করা জরুরি। তাদের মতে, ব্যক্তিগত তদবির বা প্রভাবের পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক অবদানের ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্বাচন করা উচিত।