রাজধানীর মহাখালীতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সুবিধাভোগী হলেও বিএনপি এখন সেই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার বাস্তবায়নই ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর কার্যকর উপায়।
শনিবার ( ১ আগস্ট) বিকেলে মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিচার দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএনপি এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তাঁর দাবি, জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সম্মতি দিয়েছিল। তবে বর্তমানে তারা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
তিনি বলেন, কেবল আইনের আংশিক সংশোধন নয়, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন। এ সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রক্ষমতা কোনো একক সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে না।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণ চলছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে সরকার সরে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আইন সংশোধনের মাধ্যমে ‘রিফর্ম আওয়ামী লীগ’ নামে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘পাঁচ মাসেও কাঙ্ক্ষিত কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির ও ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে তাঁর দাবি, সেই সিদ্ধান্তই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতনের সূচনা করেছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ভোটের পরিবেশ রক্ষায় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, মুফতি আলী হাসান উসামা ও ড. ফয়জুল হক। উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশ শেষে মহাখালী থেকে একটি গণমিছিল বের হয়। মিছিলটি তেজগাঁও তিব্বত মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। জামায়াতের দাবি, এতে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।