মেরুলে রাজউকের ১১ একর জমি ২১ বছর ধরে দখলে, নেই উদ্ধার উদ্যোগ
alamin dhakaprobe
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
মেরুলে রাজউকের ১১ একর জমি ২১ বছর ধরে দখলে, নেই উদ্ধার উদ্যোগ.
রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় মূল সড়কের পাশে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১১ একর জমি ২১ বছর ধরে দখলে রয়েছে। রাজউকের নথি অনুযায়ী, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলে থাকলেও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৯৬২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) বাড্ডা মৌজায় আবাসিক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১১ একর জমি অধিগ্রহণ করে। একই বছরের ২৫ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসন জমিটির দখল ডিআইটির কাছে হস্তান্তর করে। পরে ১৯৮৭ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ডিআইটির নাম পরিবর্তন করে রাজউক করা হয়।জমিটি দখলে রাখার জন্য ২০০৫ সালে দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারী নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। একই বছর রাজউকের তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা উচ্ছেদ অভিযান চালান। এর বিরুদ্ধে আরেকটি রিট করা হয়। ২০০৭ সালে মেরুল কাঁচাবাজার সমিতিও রিট করে। সব মিলিয়ে জমিটি নিয়ে রাজউকের বিরুদ্ধে পাঁচটি রিট মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।দীর্ঘ ২১ বছরেও এসব মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। এ সুযোগে জমিতে মাছ, মুরগি ও বাঁশের আড়তসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। রাজউকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে জমি উদ্ধারের উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, রামপুরা ব্রিজের কাছাকাছি মূল সড়কঘেঁষা ওই জমিতে বাঁশের আড়ত, মেরুল কাঁচাবাজার ও মাছের আড়ত রয়েছে। জমির একাংশ ঘেঁষে একটি বড় বস্তিও গড়ে উঠেছে। পাশে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও মেরুল বায়তুল জামে মসজিদ।রাজউকের জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবি করে সেখানে একটি সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছে। এতে মোহাম্মদ শরীফ ভূইয়া ও বাবু চন্দ্র দাসকে জমির আমমোক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাজউক জমিটির মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করছে।রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজউকের বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য রিট মামলা রয়েছে। মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা আছে। রাজউকের অনেক কর্মকর্তা কাজ করতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগরাজউকের ওই জমি ঘিরে মেরুল কাঁচাবাজার দোকানদার সমিতির বিরুদ্ধেও বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সমিতির সদস্যদের দাবি, দোকান দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরু করা সমিতিতে প্রায় ছয় হাজার সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সময়ে সদস্যদের কাছ থেকে মামলা পরিচালনা, সদস্যপদ হস্তান্তর ও অন্যান্য খরচের নামে টাকা নেওয়া হয়েছে।তবে রাজউক জানিয়েছে, মেরুল কাঁচাবাজার দোকানদার সমিতির নামে কোনো জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।সমিতির সদস্য হুমায়ুন কবির বলেন, দোকান পাওয়ার আশায় তিনি সদস্য হন এবং নিয়মিত টাকা দেন। ১৬ বছর পার হলেও তিনি দোকান পাননি। তাঁর দাবি, সমিতির প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কোনো হিসাব নেই।আরেক সদস্য রবিউল ইসলাম সুজন বলেন, প্রায় ২০ বছরে তিনি সমিতিতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন। দোকান পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় তিনি কিস্তি দেওয়া বন্ধ করেছেন। তবে জমা দেওয়া টাকারও কোনো হদিস নেই বলে দাবি করেন তিনি।সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহীন বলেন, ১৯৮৮ সালে সমিতির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৩০ বছর সদস্যরা চাঁদা দিলেও তাঁদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। গত ১০ বছর ধরে সমিতির কার্যক্রমও কার্যত বন্ধ।শাহীন দাবি করেন, সমিতির সাইনবোর্ড দেওয়া জমি রাজউকের। রাজউকের কাছ থেকে জমি পাওয়ার আশ্বাসে সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। পরে জমি নিয়ে মামলা জটিলতা তৈরি হয়।রাজউকের কর্মকর্তারা জানান, মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমি সমিতিকে বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় মূল সড়কের পাশে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১১ একর জমি ২১ বছর ধরে দখলে রয়েছে। রাজউকের নথি অনুযায়ী, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলে থাকলেও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৯৬২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) বাড্ডা মৌজায় আবাসিক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১১ একর জমি অধিগ্রহণ করে। একই বছরের ২৫ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসন জমিটির দখল ডিআইটির কাছে হস্তান্তর করে। পরে ১৯৮৭ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ডিআইটির নাম পরিবর্তন করে রাজউক করা হয়।
জমিটি দখলে রাখার জন্য ২০০৫ সালে দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারী নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। একই বছর রাজউকের তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা উচ্ছেদ অভিযান চালান। এর বিরুদ্ধে আরেকটি রিট করা হয়। ২০০৭ সালে মেরুল কাঁচাবাজার সমিতিও রিট করে। সব মিলিয়ে জমিটি নিয়ে রাজউকের বিরুদ্ধে পাঁচটি রিট মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ ২১ বছরেও এসব মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। এ সুযোগে জমিতে মাছ, মুরগি ও বাঁশের আড়তসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। রাজউকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে জমি উদ্ধারের উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রামপুরা ব্রিজের কাছাকাছি মূল সড়কঘেঁষা ওই জমিতে বাঁশের আড়ত, মেরুল কাঁচাবাজার ও মাছের আড়ত রয়েছে। জমির একাংশ ঘেঁষে একটি বড় বস্তিও গড়ে উঠেছে। পাশে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও মেরুল বায়তুল জামে মসজিদ।
রাজউকের জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবি করে সেখানে একটি সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছে। এতে মোহাম্মদ শরীফ ভূইয়া ও বাবু চন্দ্র দাসকে জমির আমমোক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাজউক জমিটির মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করছে।
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজউকের বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য রিট মামলা রয়েছে। মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা আছে। রাজউকের অনেক কর্মকর্তা কাজ করতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ
রাজউকের ওই জমি ঘিরে মেরুল কাঁচাবাজার দোকানদার সমিতির বিরুদ্ধেও বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সমিতির সদস্যদের দাবি, দোকান দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।
১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরু করা সমিতিতে প্রায় ছয় হাজার সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সময়ে সদস্যদের কাছ থেকে মামলা পরিচালনা, সদস্যপদ হস্তান্তর ও অন্যান্য খরচের নামে টাকা নেওয়া হয়েছে।
তবে রাজউক জানিয়েছে, মেরুল কাঁচাবাজার দোকানদার সমিতির নামে কোনো জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
সমিতির সদস্য হুমায়ুন কবির বলেন, দোকান পাওয়ার আশায় তিনি সদস্য হন এবং নিয়মিত টাকা দেন। ১৬ বছর পার হলেও তিনি দোকান পাননি। তাঁর দাবি, সমিতির প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কোনো হিসাব নেই।
আরেক সদস্য রবিউল ইসলাম সুজন বলেন, প্রায় ২০ বছরে তিনি সমিতিতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন। দোকান পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় তিনি কিস্তি দেওয়া বন্ধ করেছেন। তবে জমা দেওয়া টাকারও কোনো হদিস নেই বলে দাবি করেন তিনি।
সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহীন বলেন, ১৯৮৮ সালে সমিতির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৩০ বছর সদস্যরা চাঁদা দিলেও তাঁদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। গত ১০ বছর ধরে সমিতির কার্যক্রমও কার্যত বন্ধ।
শাহীন দাবি করেন, সমিতির সাইনবোর্ড দেওয়া জমি রাজউকের। রাজউকের কাছ থেকে জমি পাওয়ার আশ্বাসে সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। পরে জমি নিয়ে মামলা জটিলতা তৈরি হয়।
রাজউকের কর্মকর্তারা জানান, মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমি সমিতিকে বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।