সৌদির দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা.
রেড সি’তে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে।হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বলেন, এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার নৌ অবরোধ অমান্য করায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে লায়লা ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন জানিয়েছে, সৌদি আরবের আল শুকাইক উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে একটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডও এনসেলিয়া ট্যাংকারে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযান বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বিস্ফোরণের পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারা আরও জানায়, তিনটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে আগুন লাগে এবং অন্য দুটি ফিরে যায়।এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে হুথিরা রেড সি’তে জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের ওপর হামলার জবাব ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতেই দেওয়া হবে।হুথিরা এর আগে সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালি সৌদি জাহাজের জন্য বন্ধ করার কথা জানায়।বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য রেড সি হয়ে চলাচলের পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন বাব আল-মান্দাবে নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হতে পারে।খবরে বলা হয়েছে, অবরোধ ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত অন্তত সাতটি তেলবাহী জাহাজ ইয়েমেন উপকূলের কাছে পৌঁছে ফিরে গেছে। হুথিদের দাবি, তাদের অভিযানের কারণে প্রায় ১০টি জাহাজ ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জুন মাসে দুই দেশ সামরিক অভিযান বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ভেঙে পড়ে। পরে হরমুজে জাহাজে হামলা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন।সূত্র: বিবিসি
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
রেড সি’তে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বলেন, এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার নৌ অবরোধ অমান্য করায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে লায়লা ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন জানিয়েছে, সৌদি আরবের আল শুকাইক উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে একটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডও এনসেলিয়া ট্যাংকারে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযান বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বিস্ফোরণের পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারা আরও জানায়, তিনটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে আগুন লাগে এবং অন্য দুটি ফিরে যায়।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে হুথিরা রেড সি’তে জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের ওপর হামলার জবাব ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতেই দেওয়া হবে।
হুথিরা এর আগে সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালি সৌদি জাহাজের জন্য বন্ধ করার কথা জানায়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য রেড সি হয়ে চলাচলের পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন বাব আল-মান্দাবে নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হতে পারে।
খবরে বলা হয়েছে, অবরোধ ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত অন্তত সাতটি তেলবাহী জাহাজ ইয়েমেন উপকূলের কাছে পৌঁছে ফিরে গেছে। হুথিদের দাবি, তাদের অভিযানের কারণে প্রায় ১০টি জাহাজ ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জুন মাসে দুই দেশ সামরিক অভিযান বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ভেঙে পড়ে। পরে হরমুজে জাহাজে হামলা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন।